মাঝবয়েসের প্রেমের কবিতা - মন্দাক্রান্তা সেন (Bangla-Kobita)

মাঝবয়েসের প্রেমের কবিতা - মন্দাক্রান্তা সেন (Bangla-Kobita)


১.
এত যে প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে আজকাল, 
সে কি বয়েস হচ্ছে বলেই
কাঁচা বয়েসের ছেলেদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
পাহাড় থেকে ফেরার পথে, রেলস্টশনে,
কচি শসার কথা মনে পড়ে যায়,
লঙ্কাগুঁড়াে বিটনুন দিয়ে জারানাে...
শেষবার ছুটি কাটিয়ে ফিরেছি তা অনেকদিন হল
সমতলে নেমে অবধি সে যে কী চিড়বিড়ানি গরম
সারা শরীরে অস্থির অস্থির

২.
অথচ এমনটাই তাে হওয়ার কথা ছিল না, বলাে, ছিল কি?
তােমাকে নিয়ম করে মন্তর পড়িয়েছি
শরীর বিষয়ে দু'চার কথা
সে মন্তর শুধু তােমাকেই বাঁধন দিলাে, আমাকে নয়?
মাঝরাত্তির করে ফের বার করে দিলাে উঠোনে,
শানে মাথা ঠুকে ফের ফিনকি দিয়ে উঠল
ধোঁয়া-ওঠা জ্যোৎস্না।

৩.
গমের শিষের মতাে নীলাভ সবুজ ছেলেদের দল,
আমি যে কক্ষনও ওদের মা হতে চাইনি, তা নয়
তেমন কিছু না ভেবেই হাত বাড়াতে ইচ্ছে করেছিল ওদের
সুঠাম রােমশ কাণ্ডের দিকে,
হাতের পাতা গােল করে গুটিয়ে ধরে নিতে ইচ্ছে করেছিল
ওই নরম রোঁয়া বেয়ে চুইয়ে নামা আলাে
ভেবেছি, এসব ইচ্ছের কোনওদিনও কোনও
নাম না দেওয়াই নিরাপদ হয়তাে

৪.
যে-কোনও মােমবাতির মতােই
লােডশেডিং-এর স্বপ্ন দেখি আমি
অন্ধকারে শিখা কাঁপার কথা ভাবি
ভেবে ভেবে পুড়ে ছােটো হয়ে আসে আমার পলতে
ভেতর থেকে অ্যানিমিয়া ধরে, কুরে কুরে খায়
অথচ এককালে যে খুব গলতে পারতাম
সে কথা মনে করেই নস্টালজিয়ার দিকে বেঁকে যেতে থাকে আমার শিরদাঁড়া

৫.
সারাঘর অন্ধকার, আর একটাই ঝুলন্ত লম্বাটে চোঙাকৃতি আলাে
ওই আলাের নীচে দাঁড়িয়ে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে চুমু খেয়েছিল কেউ
আমি তার থেকে আলগােছে ছাড়িয়ে নিয়েছি নিজেকে
ওই চুমু-সমেত
এঁটোমুখ না ধুয়েই বেরিয়ে পড়েছি রাস্তায়
ওই চুমুর সঙ্গে মাপসই একটা
পছন্দমতাে মুখ খুঁজতে চেয়ে

৬.
রাতবিরেতে নীল ছবি দেখি
কী বলব, হাসিই পায়
একসময় দিনের মধ্যে হাজারবার
চানঘরে গিয়ে শরীর খুলে দেখতাম
নীল কালশিটে
আয়নার সামনে যত হিংস্র আত্মরতিই সারাে
মরে গেলেও নিজের স্তন নিজে কামড়াতে পারবে না।

৭.
এসব ক্ষরণের স্বাদ বড্ড টক টক
আম্নে আসা ব্যঞ্জনের মতাে
আমার গেরস্থ পুরুষটির পাতে কোন মুখে যে বেড়ে দিই, ভাবি
সারাদিন উপােস দিয়ে
মাঝরাত্তিরে ঢাকা তুলে দেখা তারও তাে অভ্যেস
কী আর আয়ােজন হবে অমন রাতদুপুরে, ঘুমচোখে,
অপ্রস্তুতের একশেষ
ওই শুধু একমুঠো ফেনাভাত, আলু কুমড়াে সেদ্ধ, নিরিমিষ...

৮.
সবুজ গালের ছেলেদের কাছ ঘেঁষে দাঁড়াতে
কী যে ভালাে লাগে এখন
ওরা আমাকে যা বলে ডাকুক, কিছু যায় আসে না।
বুঝতে পারি, এ বয়েসে আমার যা দরকার, তা হল একটু ওম
ভেতরে ভেতরে চোখ বুজে আসে আমেজে, তাই
ভালাে করে ওদের মুখও মনে করতে পারি না আমি
বাড়ি ফিরে স্বপ্ন দেখি যা-হােক কারও
 এই ধরা যাক—শাইনি আহুজার
কাল রাতে শাইনি আমাকে ফোনে কেমন বৌদি বলে ডেকেছিল ভেবে
হাসতে হাসতে চা চলকে ফেলি সকালের গা'য়

৯.
রাত থাকতে ওঠো
চান করাে।
ঘাড়ে মাথায় ভালাে করে ঠান্ডা জল থাবড়াও
এতে মন হালকা হয়
হাবিজাবি চিন্তা কাটে
এমনিতেই বয়েসটা খুব খারাপ
গতরাতের গুরুপাক খাদ্য, পানীয় ও পুরুষচিন্তা
বুঝেশুনে মেপে না চললেই হজমের গন্ডগােল
তার চেয়ে ওঠো।
রাত থাকতে চান করাে, চুল ভিজিয়ে
তােমার বয়েসে বরং সর্দিকাশি হাঁপানিও অনেক
গেরস্থ অসুখ

 ১০.
এসব কথা কাকেই বা বলার
বললে লােকে খারাপ মেয়ে মনে করেও পাত্তা দেয় না আজকাল,
বড়ােজোর ভাবে যাচ্ছেতাই কবি
দিনকাল বদলে গেছে,
ম্যারাপ বেঁধে খােলাবাজারে লােক ডেকেও বিকোচ্ছে না প্রেমের কবিতা
রােমাঞ্চকর সত্য ঘটনাও


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ