Pritilata Waddedar Articles Part 1 - অবিস্মরণীয় সান্নিধ্য - প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (পর্ব ১)

(প্রীতিলতা একটি প্রবন্ধে নির্মল সেনের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ থেকে ধলঘাটের সংঘর্ষ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার একটা মর্মস্পর্শী বিবরণী লিখেছিলেন। পরে সূর্য সেন যখন ধরা পড়েন তখন ঐ প্রবন্ধ তাঁর কাছে পাওয়া যায়। প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রবাসী পত্রিকার ১৩৫৬ সালের আষাঢ় সংখ্যায়)

কন্টক-মুকুট শিরে পরেছিলে বলে।

       সেই গভীর নিশীথে পল্লীর কোন এক অন্ধকার জীর্ণশীর্ণ কুটিরে বহু পূণ্যবলে নিৰ্ম্মলদার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল, জীবনের সে শুভ মুহূর্তটিকে শত ক্রন্দনেও আর ফিরিয়ে আনতে পারব না। কেননা আজও সেই সবই তেমনিভাবে আছে। আমিও আছি, আমার জীবনে আরও কত রজনীই এসে গেল; কিন্তু নাই কেবল সেই মহিমান্বিত তেজস্বী মানুষটি যাঁর উপস্থিতি সেইদিন সেই পর্ণকুটির আলাে করে দিয়েছিল। বিপ্লবীর কি মনােহর রূপই না সেদিন দেখেছিলাম! অন্ধকারে চোখদুটো জ্বলছিল ও মনে হচ্ছিল যেন বিদ্রোহীর মনের আগুন দুই চোখ ফেটে বেরিয়ে আসছে। তার মুখের কথার চাইতে আমার ঐ তেজোময় চোখের চাহনিই অনেক বেশী মনে হয়েছিল। বিদ্রোহীর বাণী কেবল ঐ চোখদুটোই যেন প্রচার করে দিচ্ছিল। পেছনে মেশিনের ব্যাগটা ঝুলছে, সুন্দর বলিষ্ঠ দেহ, উজ্জ্বল বৃহৎ চক্ষু, কথাবার্তা বলার পরে যখন উঠে দাঁড়ালেন মনে হল যেন বংশীবাদক পদ্মপলাশলােচন কদমতলা ছেড়ে সুদর্শনচক্র হস্তে সমর-প্রাঙ্গণে এসে পাঞ্চজন্যে ফুৎকার দিয়ে সপ্তকোটি বীর সন্তানকে মুক্তির জন্যে মৃত্যুর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তে আহ্বান করছেন।


 Pritilata Waddedar Articles - অবিস্মরণীয় সান্নিধ্য - প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (পর্ব ১)



       নিৰ্ম্মলদা আমায় প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমায় কে কি বলেছে। বললাম, সবটুকু গুছিয়ে এইটুকু সময়ের মধ্যে কি করে বলব? যা যা মনে আসবে তাই বলে যাচ্ছি। রামকৃষ্ণদা যে বলেছিল Nirmalda is the last man to be captured. He is very intelligent – এই কথাটাই প্রথমে বললাম। তারপর রামকৃষ্ণদার আরও কয়েকটি কথা হুড় হুড় করে বলে গেলাম। কি কি বলেছিলাম ঠিক মনে নাই। তবে এই দুটো কথা বলেছিলাম, ‘No revolutionary can die with satisfaction. আমি যদি এখন বের হই, তবে I shall declare equal right to brothers and sisters’.
          আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, family-র প্রতি আমার কিরূপ টান আছে। বললাম, টান আছে, কিন্তু duty to family-কে duty to country-র কাছে বলি দিতে পারব।
       পরীক্ষা কেমন দিয়েছি, পাশ করব কিনা জানতে চাইলেন। বললাম, পাশ করব বলেই মনে হচ্ছে।
         সেদিন যখন পাশের খবরটা পেলাম, মনে পড়ে গেল নির্মলদা প্রথম দিনই আমাকে পাশ করার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমার তাে বিশ্বাস, যে যায় সে একেবারে চলে যায় না। আমাদের অন্তরে বেঁচে থাকে এবং প্রাণের যা কিছু নিবেদন সবই তার কাছে পৌঁছায়। তাই মনে মনে খবরটা নিৰ্ম্মলদার কাছে পাঠিয়ে দিলাম, কিন্তু তবুও হৃদয়ের নিভৃততম প্রদেশ থেকে একটা গভীর বিচ্ছেদব্যথার সুর বেজে ওঠে। মানবহৃদয়ের এইসব অতি সাধারণ সুখদুঃখের কাহিনী যুগযুগান্তর ধরেই চলেছে। কিন্তু আমরা এ সবের যথার্থ অর্থ গ্রহণ করতে পারি না বলেই বিশ্বের বুকে এত হাহাকার, হা-হুতাশ আর ক্রন্দন। আমরা ভুলে যাই, যে শুভ প্রভাতে দুঃখের সঙ্গে একান্ত বােঝাপড়া করে নিতে পারব সেইদিনই অমৃতের সন্ধান পাব।
           তারপর আমি যখন বললাম যে, পাশ করতে পারব, তখন বললেন, তােমার কাছ থেকে extreme success demand করি, আগামী convocation-এ একটা attempt নিতে পারবে তাে?
             আনন্দে আমার অন্তর ভরে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে একটা দুর্জয় অভিমান এসে মনটা জুড়ে বসল এই ভেবে যে, এতদিন পরে মনের ইচ্ছাটা জানাবার সুযােগ মিলল। তাই নিৰ্ম্মলদার এই প্রশ্নের উত্তরে বলে বসলাম, পারব না কেন? আপনারা তাে আর বােনদের আমল দেন না। আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললেন, ‘কেবল তােমাকে একথা বললাম – আমি অনেকদিন থেকেই জানি। আমার সঙ্গে যে উনি দেখা করেছেন সেই আনন্দেই তখন বিভাের ছিলাম। অথচ সেই সময় একথা বলার কারণ। আর কিছুই নয়, অভিমান। তারপর আমাকে এই কথাগুলাে বললেন, ‘পাশ করবার পর যে কোন district-এ একটা কাজ নেবার চেষ্টা করাে – যেমন ঢাকা, ময়মনসিংহ, বাঁকুড়া ইত্যাদি। সেখানকার Magistrate, Commissioner সবার নাম একেবারে মুখস্থ করে বসবে। কখন কোথায় meeting হয় সব খবর রাখবে এবং opportunity খুঁজে বেড়াবে।'
        একটা Code বলে দিলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, আগে রমণের through-তে যে Code পাঠিয়েছিলেন তা সে বলেছে কি না এবং কি বলেছে।
           তারপর বললেন, “আমাদের ইচ্ছা যাবার আগে আর একটা কিছু করে যাই। এবার আমরা চাই যে একটা fight between intelligent and intelligent হােক।
             'যত তাড়াতাড়ি পারি করে যাব, কারণ কখন ধরা পড়ি ঠিক নাই। এত কিছুর মধ্যেও যে এতদিন ধরা পড়িনি, সেজন্য আমাদের thanks দেওয়া উচিত।'
               দ্বিতীয় বার যখন দেখা হয়, তখনও বলেছিলেন, ‘চাটগাঁ শহরের উপর একদিন


অবিস্মরণীয় সান্নিধ্য - প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (পর্ব ২)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ