
আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে। সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে। নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলি করি অপমান, আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে। সকল অহংকার হে আমার…

আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে। সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে। নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলি করি অপমান, আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে। সকল অহংকার হে আমার…

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী? বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী। যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী, তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী— বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে তোমার মনে। নীরবে দেখাও অঙ্গুলি তুলি অকূল সিন্ধু উঠিছে…

দুয়ারে হলুদ পর্দা। পর্দার বাহিরে ধুধু মাঠ আকাশে গৈরিক আলো জ্বলে। পৃথিবী কাঞ্চনপ্রভ রৌদ্রের অনলে শুদ্ধ হয়। কারা যেন সংসারের মায়াবী কপাট খুলে দিয়ে ঘাস, লতা, পাখির স্বভাবে সানন্দ সুস্থির চিত্তে মিশে গেছে। শান্ত দশ দিক। দুয়ারে হলুদ…

কান্না হাসির পোঁটলা বেঁধে, বর্ষভরা পুঁজি, বৃদ্ধ বছর উধাও হ’ল ভূতের মুলুক খুঁজি। নূতন বছর এগিয়ে এসে হাত পাতে ঐ দ্বারে, বল্ দেখি মন মনের মতন কি দিবি তুই তারে? আর কি দিব?- মুখের হাসি, ভরসাভরা প্রাণ, সুখের মাঝে…

জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ আমি তাে জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ মাটিতে লালিত, ভীরু শুধু আজ আকাশের ডাকে মেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, স্বপ্ন ঘিরে রয়েছে আমাকে। যদিও নগণ্য আমি তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজে তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে…

হে পৃথিবী, আজিকে বিদায় এ দুর্ভাগা চায়, যদি কভু শুধু ভুল ক’রে মনে রাখো মোরে, বিলুপ্ত সার্থক মনে হবে দুর্ভাগার! বিস্মৃত শৈশবে যে আঁধার ছিল চারিভিতে তারে কি নিভৃতে আবার আপন ক’রে পাব, ব্যর্থতার চিহ্ন এঁকে যাব, স্মৃতির মর্মরে?…