এ যে আমার সাড়ে তিন হাতের মস্ত জমিদারি
এর নাই কোনও শরিক, নাইকো দখলদারি।
দুইখান বাতি জ্বলে আর নেভে, ব্যস্ত সেরেস্তাখানা
আসা যাওয়ার দরজা খোলা, তবু ভিতরে যেতে মানা।
দুনিয়া যখন হাতছানি দেয়, এক নয়নে কান্দি
যে আমারে দূরে ঠেলেছে, তারেই দু’ হাতে বান্ধি।
দুই কান ধরে সদা টান মারে স্বর্গ-নরকের দ্বারী
তবু এ আমারই সাড়ে তিন হাতের মস্ত জমিদারি।
এ জমিদারির নাই কোনও খাজনা, শুধুই বাজনা বাজে
কাজের সময় ঘুমাই আমি, ধুন্ধুমার হয় অকাজে।
অতিথিশালায় একখান ঘর, দিবা রাত্তির খালি
খালির খালি, বাতাস ভরা, শুকনো ফুলের ডালি।
ক্ষুধার সময় নিজেকেই খাই, তৃষ্ণায় চক্ষের পানি
আমিই ব্যাঘ্র, আমিই প্রেত, হৃদয়ে রাজধানী।
ভুলভুলাইয়া যত ব্যথা, সুখের কথা, সমান হলো ভাইরে
আর সুনীল ক্ষ্যাপা কয়রে আমি তাইরে নাইরে নাইরে।
