ছোটবেলায় স্বদেশবাবুর কাছে ভূগোল পড়তাম
প্রথম দিন একটা ধারালো লেড পেনসিল হাতে ধরিয়ে
তিনি আমায় ভারতবর্ষ আঁকতে বলেছিলেন
আঁকবো কি!
লেড পেনসিলের শিস হাতে ফুটে একেবারে রক্তারক্তি
সেই থেকে ভূগোলে আমার ভীষণ ভয়
আরও ভয় মানচিত্রে
মানচিত্র মানেই আমার কাছে ধারালো লেড পেনসিল
বাবার জ্যাঠাইমা ছিলেন পদ্মাপারের মেয়ে
তাঁর একটা নিজস্ব ভূগোল ছিল তেতাল্লিশ থেকে অপরিবর্তিত
‘ত’গো মানচিত্র বুঝি না মণি,
রংপুর – কুষ্ঠিয়ারে ত রা কইস বিদেশ!
আমাগো বাপের বাড়ি বিদেশ হয় কমনে’?
ঠাকুমার কাছে চোখ বুজে
আব্বাসউদ্দিনের সেই পাখির গল্প শুনতাম,
বগাকে দেখে বগী কাঁদে বগীকে দেখে বগা
-আয় পাখি আমরা দুজনে
গলা ধরাধরি করি কাঁদি লো নীরবে
ঠাকুমা শুনিয়ে যেতেন
নির্মলেন্দুর সেই চাঁদ বদনী মেয়ের রুনুক-ঝুনুক নূপুরের গান
স্বপ্নে খুঁজে বেড়াতাম সেই পড়শিকে
বাড়ির পাশে আরশিনগরে যার বসত
স্বদেশবাবু ভূগোল শিক্ষক,
তিনি শিখিয়েছিলেন সূক্ষ্ম ধারালো লেড পেনসিল দিয়ে
একটা নিখুঁত ভারতবর্ষ আঁকতে
একটা রেখা চিরে গেল লালন – আব্বাসউদ্দিনের বুক,
অন্য রেখাটা টানলাম গোলাম আলি, নসরৎ ফতে আলির
হৃৎপিন্ডের পাশ দিয়ে
আফগানিস্তানের মেয়ে ছিলেন গান্ধারী,
তিনি তালিবান ছিলেন না , তবু ছিল চোখে পট্টি বাঁধা,
আমরাও এখন বালুচ – পাখতুনদের কাছে
পট্টি কিনে সযত্নে ঢেকে রেখেছি চোখ
স্বদেশ স্যার,
সবরমতির ঘরের দাওয়ায় কারা গায় রামধূন?
গুজরাত আজ শমীবৃক্ষ কি!লুকোনো কালের তূণ?
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর বিস্তীর্ণ এই মাটিতে
একটা দশ বাই দশের বস্তি কি খুব বেশি!
এখন আমরা স্বদেশ আঁকি তারকাঁটাতে
আঁকতে আঁকতে হাতে আমার রক্তক্ষত
স্বদেশ মানে কাঁটার বেড়া লেড পেনসিল
স্বদেশ মানে রক্তঝরা অবিরত!
