নতুন দুর্গা — শ্বেতা চক্রবর্তী

প্রিয়জনের কাছে শেয়ার করুন :—

শিশুকে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে যে মা বাসন মাজে,

তাকে নিয়ে আমি আকাশ বানাতে পারি নি,

তাকে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সঙ্গে সঙ্গে বই,খাতা,পেন কিনে

প্রতিদিন হোম ওয়ার্ক দিয়েছি।

সে নিয়েছে।পড়া তার এগোয় নি।

সে বারবার ভাতের কথা বলতো।

আমি বলতাম,ভাতের সন্ধান আর পড়াশোনায় কোনো বিরোধ

নেই।

সে বইয়ের একটি পাতাও খুলে দেখে নি।

সে এমন শরতেও শিউলি আর কাশফুল দেখে নি।

সে কেবল ভাতের গল্প শুনিয়েছে।

কাজের গল্প।

শ্রমের গল্প।

আমি তবু তার সামনে বই ফেলে রেখেছি।

যদি বাচ্চার খাদ্য দিতে দিতে একবার হাতে তুলে নেয়।

নেয় নি।

গোলাপি সিন্দুকে বারবনিতাও ছোটো বেলার সহজপাঠ রাখে।

ঘরের বাবুর চোখে লেখা দেখে একরাশ শিক্ষা ও স্বজন।

তোমরা আরো দুঃখের গল্প লেখো।

আরো দারিদ্র্যকে ভূষণ পরাও।

চরাচর জুড়ে তবু বই উড়বে,

আমার চেষ্টা।

আমার তেষ্টার গল্পে দারিদ্র্যের প্রতি ঘৃণা আছে।

দরিদ্রর প্রতি নয়।

তবু যেন শনৈঃ শনৈঃ একে অপরের দিকে হাঁটে।

ছেঁড়া শাড়ির দুর্গাকে তুমি কোথাও দেখেছ?

তার একটা হাত ভাত খায়,

একটা হাত রূপ সাজায়,

তার বিজয়ের গল্পে কি কম দুঃখ?তবু সে দুঃখিনী নয়।

রক্ত,ঘাম,শ্রম,চট,ইটেই নারীরা শেষ হয় না।

নতুবা তাদের দেবী মানবে কে?

শেফালিতলায় আমি পূজায়ন খুঁজতে খুঁজতে বুঝি,

ভুলের,ভ্রমের কাছে আমাদের বিপ্লব হারিয়ে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *