অথচ তোমার মুখে আলো – পূর্ণেন্দু পত্রী
সময়ের ছারখার, অথচ তোমার মুখে আলো। কালকেউটে এখুনি কামড়ালো কাকে যেন, কাকে? এবারও কি লখিন্দর পাবে বেহুলাকে? ও বৌ ক্রমশ নীল, আরো নীল, রক্তে হিমকণা ও বৌ আমাকে ছেঁড়ে আগুনের কুড়ি লক্ষ ফণা ও বৌ আমার হাড়ে বিঁধে যায় কার…
সময়ের ছারখার, অথচ তোমার মুখে আলো। কালকেউটে এখুনি কামড়ালো কাকে যেন, কাকে? এবারও কি লখিন্দর পাবে বেহুলাকে? ও বৌ ক্রমশ নীল, আরো নীল, রক্তে হিমকণা ও বৌ আমাকে ছেঁড়ে আগুনের কুড়ি লক্ষ ফণা ও বৌ আমার হাড়ে বিঁধে যায় কার…
সেই কবে বাল্যকালে বৃষ্টি হয়েছিল সেই কবে বৃষ্টিজলে ভিজেছিল লাজুক কদম সেই কবে কদমের ডালে এক পাখি বসেছিল সেই পাখি বলেছিল পৃথিবীর ভিতরে আরেক গর্ভকেশরের মতো গোপনীর পৃথিবী রয়েছে সেই পৃথিবীর খোঁজে চাঁদ সদাগর ঝড়ে-জলে ডুবে যাবে জেনেও নিজের নৌবহর…
এক যে ছিল বিদ্যাসাগর ভীষণ বাজে লোক বলতো কিনা বিধবাদের আবার বিয়ে হোক ? এক যে ছিল বিদ্যাসাগর দেখতে এলে বেলে চাইতো কিনা লেখাপড়া শিখুক মেয়ে, ছেলে ? এক যে ছিল বিদ্যাসাগর দেমাকধারী ধাত্ সাহেব যদি জুতো দেখায় বদলা…
মাঝে মাঝে লোডশেডিং হোক। আকাশে জ্বলুক শুধু ঈশ্বরের সাতকোটি চোখ বাকী সব আলকাতরা মাখুক। আমরা নিমগ্ন হয়ে নিজস্ব চশমায় আর দেখি না কিছুই সকলে যা দেখে তাই দেখি। আকাশের রঙ তাই হয়ে গেছে চিরকালে নীল। বাতাস কি শাড়ি পরে…
তোমাকেই দৃশ্য মনে হয়। তোমার ভিতরে সব দৃশ্য ঢুকে গেছে। কাচের আলমারি যেন, থাকে থাকে, পরতে পরতে শরতের, হেমন্তের, বসন্তের শাড়ি গয়না দুল, নদীর নবীন বাঁকা, বৃষ্টির নুপুর, জল, জলদ উদ্ভিদ। সাঁচীস্তুপে, কোনারকে যায় যারা, গিয়ে ফিরে আসে…
তোমার বিষাদগুলি করতলে তুলে নিতে দাও ওষ্ঠপুটে রাখি। ভীষণ বৃষ্টির শব্দ সারাদিন স্মৃতির ভিতরে। একাকিনী বসে আছ বৃষ্টির ভিতরে বালুকাবেলায় কবেকার উইয়ে-খাওয়া ছবি। তোমার বিষাদগুলি করতলে তুলে নিতে দাও ওষ্ঠপুটে রাখি। মানুষের ভীষণ বিষাদ একদিন বেজেছে মন্দিরে…