সিতুই ডাঙার সোনকা সরেন জুম খাটতে গেল,
চাষের কাজে কেউ গেল,কেউ ধানকলে পাটকলে
হারিন গেল সিতুই ডাঙার মারার বোঙার থান
হারিন গেল রুপান- সেরেঞ – কালো দিঘির জলে
রুপান বলে ‘যাস না কুরি-নডে হিজুমে
ওঁকাতে বাঙ চলা কানা – নডে হিজুমে
খেজারি আর দাকা জুম হে – কি হবে তুর ট্যাঁকায়
ঘর বাঁধবো সিতুই ডাঙায় , সাঙা করবো তুম হে-‘
সেরেঞ ছেড়ে , রুপান ছেড়ে ,ছেড়ে সিতুই ডাঙা
সোনকা গেল জন খাটতে প্যাটের বড়ো দায়
লগদা লগদ পয়সা মিলে , মাথায় ফুলেল ত্যাল
সিতুই ডাঙার কালো কোকিল হারালো সংখ্যায়
সেরেঞ এখন সাইরেন হয় , বাজে কলের বাঁশি
পাথর কাটা কলের ধোঁয়ায় বুকে ঘুনের বাসা
প্যাটের মধ্যে সাদা ছেলে – দুচোখ পুড়া ছাই
জাত লিয়েছে , ধরম লিলে লদী কীর্তিনাশা –
সোনকা আবার ফিরছে গাঁয়ে সিতুই ডাঙার কোলে
রাঙা মাটি – রাধাচূড়া – মহুল গাছের ছায়ায়
আজ ও যেথায় অপেক্ষাতে রুপান টুডুর সেরেঞ
কোলের ছেলে সঙ্গে ফেরে কালো মাটির দাওয়ায়
বাদনা আবার জমবে গাঁয়ে মাদলে নিমফুলে
বাহা হবে , দং – কারাম – লাগড়ে – সোহরায়
সোনকা – রুপার সাঙা হবে , লতুন রাঙা সেরেঞ
প্রেম খুঁজোনা সংশয়ে, প্রেম খুঁজো এ আস্থায় ।
সিতুই ডাঙা – ভুবন ডাঙার চিরন্তনী বহে
“এসেছো প্রেম এসেছো আজ কী মহা সমারোহে…………”
