জানিস শুভম,কাল রাত্তিরে মা আমাকে খেতে দেয়নি,
ঋতব্রতর থেকে তিন নম্বর কম পেয়ে আমি সেকেন্ড হয়েছি বলে
মার্কশিট নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই মা একচোট নিয়ে নিল,
বাঁদরের বাচ্চা,শুয়োরের ঝাড় এবারও সেকেন্ড!
মার্কশিট গুটিয়ে মুড়ে বকে বকে ফেলে দিল প্রেসার কুকার
গালে ব্লিচ,চোখে মাস্কারা ছিল বলে ভূতের মতো দেখাচ্ছিল
আমার ঘুড়িদুটো পটাপট ছিঁড়ে দিয়ে
কাঠিদুটো দিয়ে পেটাতে লাগল
যতক্ষণ না ভাঙে,
বিকেলে অফিস ফেরত বাবা এলে মা বলল,
ছেলেকে নিয়ে তুমিই থাকো এ বাড়িতে
আমি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি
আমি ঘুমোনোর ভান করে শুয়ে ওদের কথাগুলো শুনছিলাম
টিনটিনের বইগুলো ছিঁড়ে দিল,ভেঙে দিল টয়গানটাও
শুভম,আমি বোধহয় কোনোদিনই ঋতব্রতকে টপকাতে পারব না,
তুই থার্ড হয়েছিস বলে নিশ্চয়ই বাড়িতে পিটুনি খেয়েছিস,
শুভম,রেজাল্ট বেরোনোর দিন আমার যে কি ভয় করে তোকে বোঝাতে পারব না,
আরও ভয় করে মা যখন স্কুলে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করে
খাতা যাচাই করে ফিরে আসে-
ওঃ কীভাবে যে বাড়িতে ঢুকি-
শুভম,ওই তিন নম্বরের ফাঁড়া যদি না কাটে
আমার সামনে কোনো রাস্তাই খোলা নেই
আমাকে নিয়ে বাবা মার মধ্যে সুখ নেই,
ওদের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ।
আমাকে নিয়ে মার সঙ্গে ঝগড়া, মাস্টারমশাই এর সঙ্গে ঝগড়া
ও সবের মধ্যে আমিই দোষী
শুভম,তুই জানিস তিন নম্বর বাড়ানোর উপায়?
জানিস এই দৌড়ে ফার্স্ট হবার কৌশল?
সেই একশো মিটার দৌড়ে ফার্স্ট হওয়ার জন্য
সুজয় যেমন বিজনকে ল্যাং মেরে
ফেলে দিয়েছিল সেটাই রাস্তা কিনা!
শুভম,তোকে বলে দিচ্ছি,এবারও যদি ঋতব্রত আমাকে টপকে যায়,
বড়দিনে বাড়িতে নেমন্তন্ন করে কেক খাওয়াব
আর সেই কেকের মধ্যে মিশিয়ে দেব…
শুভম,আমি যে ঋতব্রতকে খুব ভালবাসি
ওর টিফিন ভাগ করে খাই আমি,
ঋতব্রত কি আমাকে কোনদিনও ক্ষমা করতে পারবে?
পারবি ঋতব্রত? পারবি!
