ধরো,আমাদের গতজন্ম..
একটু রাতের দিকে ঝলমল সেই আমাদের লক্ষ্নৌ শহর..
আমি ছিলাম তোমার অতল তবায়েফ,প্রিয়া,
যার চারদিকে রূপমুগ্ধ,গুণমুগ্ধ কৃপাপ্রার্থীদের দেখে
তুমি বুঝেই গেছিলে তোমার আয়ু মাত্র দুটি মাস;
তুমি তবু গান শুনতে,
আদব কায়দা শিখতে,
দ্রাক্ষাসমুদ্রের বুকে বিষণ্ণ নাবিক হয়ে ভয়ে,উপভয়ে জানতে দু
মাস,মাত্রই দু মাস..
ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় ঠনঠন করে উঠতো জ্বালাচোখ..
ঝাড়বাতির আলোয় রিনরিন করে উঠতো আহেলী গোলাপ..
দিন যেত মহাসরোদের..স্বাদের..
এ জন্মে শোধ নিতে এসেছো প্রেমিক,
এ জন্মে তোমার চারদিকে রূপসীর ঢল,
এ কলকাতা,পুরানা হাভেলী নয়,আঙুরলতার গান নয়..
বুঝি,শুধু এই ঋণশোধের অন্ধকারে অবিরল জল আর জল..
দু জন্মের ব্যবধানে দুই দাবানল একা একা পুড়ে যায়,
বন পোড়ে,জন্তুরা পোড়ে,পাখি পোড়ে,দাবানল পোড়ে..
আর
রূপালু মানুষ পোড়ে যে যার ঘরের বুকে একা,
কালো দ্রাক্ষা হেসে ওঠে এপার ওপার জন্মের অক্ষমায়..
ভালোবাসাহীন ভালোবাসায়,
রজ্জুময়,গজলময়,সূর্মাময় একা আর একা..
