বাদুড় ঝোলা — অন্নদাশঙ্কর রায়
আদুড় বাদুড় চালতা বাদুড় বাদুড় দেখ’সে ট্রামগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড় রাত্রিদিবসে। বাসগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড় টিকিট না কেটে রেলগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড় প্রাণটি পকেটে।
আদুড় বাদুড় চালতা বাদুড় বাদুড় দেখ’সে ট্রামগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড় রাত্রিদিবসে। বাসগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড় টিকিট না কেটে রেলগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড় প্রাণটি পকেটে।
বয়স হল অষ্টআশি, চিমসে গায়ে ঠুন্কো হাড়, নাচছে বুড়ো উল্টোমাথায়- ভাঙলে বুঝি মুন্ডু ঘাড়! হেঁইয়ো ব’লে হাত পা ছেড়ে পড়ছে তেড়ে চিৎপটাং, উঠছে আবার ঝট্পটিয়ে এক্কেবারে পিঠ সটান্। বুঝিয়ে বলি, ‘বৃদ্ধ তুমি এই বয়েসে কর্ছ কি? খাও না খানিক মশলা…
দুর্গা মা খুব গেলেন রেগে এসেই এবার বঙ্গে মানুষ কেন মাতছে এমন আবোল তাবোল রঙ্গে? চানার ঠাকুর ছানার ঠাকুর ঠাকুর নানা বস্তুর চাঁদের ঠাকুর ডালের ঠাকুর এটা কেমন দোস্তুর? খবর পেলাম গোবর ডাঙ্গায় গড়িয়ায় আর গোবরায় মূর্তি আমার হচ্ছে গড়া…
একদিন ছুটি পেলে শহর পিছনে ফেলে জানিস তো সব্বাই কোনখানে যেতে চাই? পিকনিকে বারবার, ডায়মন্ড হারবার। ডায়মন্ড হারবার (৩) আর যদি ছুটি পাই তিনদিন তবে ভাই ধর্মতলার মোড়ে সরকারি বাস ধরে সক্কলে দিই ছুট দীঘা আর জুনপুট। দিঘা আর জুনপুট (৩)…
এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে। কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতারবিলে, আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে। দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে, কান না পেলে চার দেয়ালে মরব…
পেঁচোটাকে মাসি তার যত দেয় আস্করা, মুশকিল ঘটে তত এক সাথে বাস করা। হঠাৎ চিমটি কাটে কপালের চামড়ায়– বলে সে, “এমনি ক’রে ভিমরুল কামড়ায়।’ আমার বিছানা নিয়ে খেলা ওর চাষ-করা– মাথার বালিশ থেকে তুলোগুলো হ্রাস-করা। কাব্যগ্রন্থ: খাপছাড়া।