মৈত্রেয়ী — দেবেশ ঠাকুর

প্রিয়জনের কাছে শেয়ার করুন :—

যাজ্ঞবল্ক আজ রাজ্যপাট ছেড়ে চলে যাবেন

পিছনে পড়ে থাকবে সোনার সিংহাসন ,স্ফটিকের স্নানাগার , রত্নখচিত চন্দ্রাতপ

স্ত্রীগণকে দিয়ে গেলেন

গোধন, উর্বরা ভূমি , রত্নালঙ্কার

রাজার পরনে এখন শুধু সন্ন্যাসীর বসন

হাতে বিল্বদণ্ড, কমণ্ডলু , সামনে সুদীর্ঘ বন্ধুর পথ,

হঠাৎ পদশব্দ শুনে যাজ্ঞবল্ক পিছন ফিরলেন

দেখতে পেলেন মৈত্রেয়ীকে ‘তুমি-

এই ধূলিধূসর দুর্গম পথে কেন?

তোমাকে যে সহস্রাধিক গোধন দিয়েছি তাতে তৃপ্ত নও তুমি’?

মৈত্রেয়ী বললেন, ‘না’।

‘-যে মহার্ঘ রত্নরাজি দিয়েছি তাতেও সন্তুষ্ট নও’?

‘না’।

‘যে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড তোমায় দিয়েছি

ঋতুমতী জননীর চেয়েও উর্বরা এতেও খুশী নও’?

‘না’ মৈত্রেয়ী বললেন দৃঢ় কণ্ঠে।

তবে তুমিই বলো আর কোন সম্পদে

কোন সাম্রাজ্যে তুমি তৃপ্ত হবে?’

মৈত্রেয়ী হাসলেন।

ব্রীড়ায় একবার মাত্র নিচু করলেন চোখ।

তারপর দীর্ঘ ঘনপল্লব মেলে দেখলেন নিবিড় আকাশ

দেখলেন সবুজ অরণ্য

অনন্তসমুদ্র

তারপর বর্শাফলকের মত নির্মেদ কণ্ঠে বললেন

‘যাতে অমৃত মেলেনা, তা নিয়ে আমি কি করব’?

এই শব্দ যা তীরের মত তীক্ষ্ণ

যা পর্বতের মত বিপুল

যা আকাশের মত ব্যপ্ত হয়ে

শচীর পারিজাত বনে নাড়া দিয়ে যায়

এই অমৃতের জন্যই লক্ষ্মী ওঠেন কাঁখে কলস লাখোবার সমুদ্র মন্থন

যাজ্ঞবল্ক চমকিত হয়ে মৈত্রেয়ীকে দেখলেন

দেখলেন জীর্ণ পোষাকে নিরাভরণা স্ত্রীকে-

দেখলেন ষড়ৈশ্বর্য্যশালিনী এক নারীকে

একটি সম্পূর্ণ মানুষকে

মানুষের পায়ের নিচে সমুদ্র

দুহাতে আকাশ

নাভিতটে আদিগন্ত উর্বর ভূমি

মৈত্রেয়ী হেঁটে চলেছেন অমৃতের খোঁজে

পিছনে পড়ে আছে রাজবসন,সুবর্ণ, সাম্রাজ্য

জীবনবিমা,

কিছু নুড়ি পাথর-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *