সবলা (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার হে বিধাতা? নত করি মাথা পথপ্রান্তে কেন রব জাগি ক্লান্তধৈর্য প্রত্যাশার পূরণের লাগি দৈবাগত দিনে। শুধু শূন্যে চেয়ে রব? কেন নিজে নাহি লব চিনে সার্থকের পথ। কেন না ছুটাব…
নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার হে বিধাতা? নত করি মাথা পথপ্রান্তে কেন রব জাগি ক্লান্তধৈর্য প্রত্যাশার পূরণের লাগি দৈবাগত দিনে। শুধু শূন্যে চেয়ে রব? কেন নিজে নাহি লব চিনে সার্থকের পথ। কেন না ছুটাব…
পত্র দিল পাঠান কেসর খাঁরে কেতুন হতে ভূনাগ রাজার রানী, “লড়াই করি আশ মিটেছে মিঞা? বসন্ত যায় চোখের উপর দিয়া- এসাে তােমার পাঠান সৈন্য নিয়া, হােরি খেলব আমরা রাজপুতানী।” যুদ্ধে হারি কোটা শহর ছাড়ি কেতুন হতে পত্র দিল রানী। …
যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে, সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া, যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে, যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া, মহা আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে, দিক্-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা– তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা। …
আর আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। আর নিজের দ্বারে কাঙাল হয়ে রইব না। এই বোঝা তোমার পায়ে ফেলে বেড়িয়ে পড়ব অবহেলে — কোনো খবর রাখব না ওর, কোনো কথাই কইব না।…
জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো। সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো। কর্ম যখন প্রবল-আকার গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার, হৃদয়প্রান্তে হে নীরব নাথ, শান্তচরণে এসো। আপনারে যবে করিয়া কৃপণ কোণে পড়ে থাকে দীনহীন মন, দুয়ার খুলিয়া হে…
আজ বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে ; চলেছে গরজি, চলেছে নিবিড় সাজে। হৃদয়ে তাহার নাচিয়া উঠিছে ভীমা, ধাইতে ধাইতে লোপ ক ‘ রে চলে সীমা, কোন্ তাড়নায় মেঘের সহিত মেঘে, বক্ষে বক্ষে মিলিয়া বজ্র বাজে। বরষার রূপ হেরি…