কৃষ্ণ ভোলবার পর সবাই ভুলেছে তোকে,
কেউ আর মনে রাখেনি
“গোঠে মাঠে বাটে ধবলী চরাই রাই
তোমার প্রেমের কী বা জানি ”
সত্যি কিছু জানতো নাতো সে..
শুধু শিকারের লোভে, শুধু জয়ের নেশায় এসেছিল
কত তার কাকুতি মিনতি,
কত তার রাজ্যপাট,মথুরা বিলাস,
কত তার বৃন্দাসখী, সত্যভামা, রুক্মিনী সুন্দরী
তার জীবন যাপন জুড়ে জেগে ওঠে, ঐশ্বর্যের অদ্ভূত নাটক..
তারপর তোর কি যে হল?
প্রবঞ্চিত সর্বহারা একাকী নায়িকা ..
তোকে ভুলে তোকে ফেলে সে তো বেশ রাজ অধিরাজ সেজে
মহাকাব্যটির প্রধান পুরুষ হয়ে প্রচণ্ড প্রতাপে বেঁচে আছে
আজও
বাঁশির প্রতাপে তুই ভেসে ভেসে
সুরের সম্মোহে তুই ভেসে গিয়েছিলি, সরলা ঘোষিত
প্রাপ্তির নেশায় তুই কোনোদিন আপন আঁচলখানি..
বিজয়পতাকা করে ওড়াসনি,
রাজার নন্দিনী;রাজার দুলালী তুই..
তোর কোনো রাজ্যপাট নেই,
শুধু কানু,ভুল কানু,ভুল নায়কের জন্য তোর সত্যকান্না,
সত্যকার চূড়ান্ত আবেগ রয়ে গেছে আজও…
তোকে আর কেউ খুঁজে পায়নি রাধিকা …
তোর জন্য কষ্ট হয়,
তোর জন্য মায়া হয়,
তোর ওপর ক্রোধ হয় খুব …
কৃষ্ণ ভোলবার পর কী তোর রইল মেয়ে? ?
কে তোর রইল বল আর?
কৃষ্ণও কি কোনোদিন
ঠিকঠাক নিয়েছিল তোকে?
আপন মোহিনী শক্তির কাছে নতজানু,
কি বিপুল শক্তিতে সে অধিকার করে নিতে পারে রমণীর হৃদয়…
এই সত্য জেনে নিতে সে এসেছিল তোর কাছে,
আর তুই বোকা মেয়ে!
তাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া মনে করে,
ঘর ছেড়ে বর ছেড়ে ভেসে ছিলি
পথে পথে; পথে ও বিপথে ..
তোকে ফেলে সে গিয়েছে
মোহন বাঁশিটি নিয়ে নতুন নগরে।
তার যুবতীমোহন রূপ দেখে
মুগ্ধ হয়ে আবিশ্বভারত আজও…
বলো বড়ু চন্ডীদাস, বলো বিদ্যাপতি,বলো জ্ঞানদাস,শ্রীদাম
সুদামসখা, বলরাম দাস, কেউ কিছু জান নাকি তার কথা ? তার
কথা? রাধিকার কথা?
