Kothin anubhav kobita কঠিন অনুভব কবিতা – শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চারধারে তার উপঢৌকন, কিন্তু আছে স্থির, দুহাত মুঠিবদ্ধ কিন্তু ভিতরে অস্থির। কেউ তাকে দ্যাখেনি হতে, উচিত ভেবে সব ফিরিয়ে দিল, তার ছিলো এক কঠিন অনুভব।
চারধারে তার উপঢৌকন, কিন্তু আছে স্থির, দুহাত মুঠিবদ্ধ কিন্তু ভিতরে অস্থির। কেউ তাকে দ্যাখেনি হতে, উচিত ভেবে সব ফিরিয়ে দিল, তার ছিলো এক কঠিন অনুভব।
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি— যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয় জন্মেই হাঁটতে হয় হাঁটতে-হাঁটতে হাঁটতে-হাঁটতে একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে পৌঁছুতে পারি পথ তো একটা নয়— তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের…
মানুষ যেভাবে কাঁদে, তেমনি কি কাঁদে পশুপাখি? একা থাকি বড়ো একা থাকি। ভিতরে ভিতরে একা, অরণ্যের মধ্যিখানে একা ঘরে ও বাহিরে একা, দিনে-রাতে, দুঃখে ও সুখে ছায়া নেই, মায়া নেই, ফুলের বাগানে নেই ফুল ঝর্নার মতন ঢাল—পিঠ জুড়ে আছে…
একটি মানুষ হঠাৎ কেন শব্দ করে- তালি বাজায়? পাথর দেখে ভয় পেয়েছে। মানুষটা কি পাথর নিজেই? পরস্পরের আলিঙ্গনে জ্বলবে আগুন? ভয় পেয়েছে। একটি মানুষ মানুষ দেখে ভয় পেয়েছে! জঙ্গলে সে ভীষণ যেতো অবশ্যত জঙ্গলে সে বাঘের…
আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবি এমন ছিলনা আষাঢ় শেষের বেলা উদ্যানে ছিল বরষা-পীড়িত ফুল আনন্দ ভৈরবী। আজ সেই গোঠে আসেনা রাখাল ছেলে কাঁদেনা মোহনবাঁশিতে বটের মূল এখনো বরষা কোদালে মেঘের ফাঁকে বিদ্যুৎ-রেখা মেলে। সে কি জানিতনা…
আমি যাই তোমরা পরে এসো ঘড়ি-ঘন্টা মিলিয়ে শাক-সবজি বিলিয়ে তোমরা এসো ততক্ষণে চোখের ওপরকার হৈ হৈ শূন্য মাঠ পার হই তারপর তো একনাগাড় জঙ্গল সাপ-খোপ-জলা সবুজ একগলা দেয়াল বা দেয়ালের চেয়ে বেশি মৃত্যু এলোকেশী সাঁকো যেখানেই থাকো এপথে…