দুর্গা (কবিতা) – দেবব্রত সিংহ
ও বিল্টু, তুই এখন কোথায় আছিস বাবা তুই এখন আছিস কোথায়, হাসপাতালে তোর বাপ বলেছিল,’ছেলে তো অন্য ঘরে’ সেই ঘরটা কোথায় রে, আমি সব ঘর দেখেছি ঘুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আমি ঘুরে দেখেছি সব ঘর, কোথাও তোর দেখা পাইনি…
ও বিল্টু, তুই এখন কোথায় আছিস বাবা তুই এখন আছিস কোথায়, হাসপাতালে তোর বাপ বলেছিল,’ছেলে তো অন্য ঘরে’ সেই ঘরটা কোথায় রে, আমি সব ঘর দেখেছি ঘুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আমি ঘুরে দেখেছি সব ঘর, কোথাও তোর দেখা পাইনি…
“ও বাপুন ও বাপুন রে আমি তোর মা রে বাপুন আমি তোর মা একবার চল বাপ তোর বাবার শেষ কাজ টুকুন করবি চল” কোনো সাড়া নেই কোনো শব্দ নেই শব্দ বলতে যেটুকু সে হলো আশপাশের ভদ্রলোকদের, একতলা দোতলা বাড়ির দুমদাম…
ধৃতরাষ্ট্র বললেন : ধর্মক্ষেত্রে রণক্ষেত্রে সমবেত লোকজনেরা সবাই মিলে কী করল তা বলো আমায় হে সঞ্জয় অন্ধ আমি দেখতে পাই না, আমিই তবু রাজ্যশিরে কাজেই কোথায় কী ঘটছে তা সবই আমায় জানতে হবে সবই আমায় বুঝতে হবে…
কিছু কিছু আমলা আছে তাদের বড়ো গামলা আছে তাতেই বহন করেন তারা মাল। তাদের অনেক পাওয়ার আছে অনেক কিছু খাওয়ার আছে কুমির এনে তারাই কাটেন খাল। কেউ বা আবার খোদার খাসি কেউ বা আবার বাঘের মাসি কেউ বা আবার বিক্রি…
হাইড্র্যাণ্ট খুলে দিয়ে কুষ্ঠরোগী চেটে নেয় জল; অথবা সে-হাইড্র্যাণ্ট হয়তো বা গিয়েছিলো ফেঁসে এখন দুপুর রাত নগরীতে দল বেঁধে নামে। একটি মোটরকার গাড়লের মতো গেল কেশে অস্থির পেট্রল ঝেড়ে; সতত সতর্ক থেকে তবু কেউ যেন ভয়াবহভাবে প’ড়ে গেছে জলে।…
ঢের সম্রাটের রাজ্যে বাস ক’রে জীব অবশেষে একদিন দেখেছে দু-তিন ধনু দূরে কোথাও সম্রাট নেই, তবুও বিপ্লব নেই, চাষা বলদের নিঃশব্দতা খেতের দুপুরে। বাংলার প্রান্তরের অপরাহ্ণ এসে নদীর খাড়িতে মিশে ধীরে বেবিলন লণ্ডনের জন্ম, মৃত্যু হ’লে— তবুও রয়েছে পিছু ফিরে।…