হাজারদুয়ারি — শঙ্খ ঘোষ
একবার তাকাবে না? নিজের মুখের দিকে চোখ ভরে? মাঝে-মাঝে ফিরে দেখা ভালো নয়? তুমি হাত ধুতে পারো এত গঙ্গাজল জানে কোন দেশ! মাঝে-মাঝে ধুয়ে নেওয়া ভালো নয়? তাই আমি আমার দক্ষিণ হাত রেখেছি নিজের বুকে, তুমি এসো, মাথা পাতো, যেন…
একবার তাকাবে না? নিজের মুখের দিকে চোখ ভরে? মাঝে-মাঝে ফিরে দেখা ভালো নয়? তুমি হাত ধুতে পারো এত গঙ্গাজল জানে কোন দেশ! মাঝে-মাঝে ধুয়ে নেওয়া ভালো নয়? তাই আমি আমার দক্ষিণ হাত রেখেছি নিজের বুকে, তুমি এসো, মাথা পাতো, যেন…
ঘুমটা ভেঙ্গে গেল হঠাৎ। বাইরে কি ঝড় হচ্ছে? দাপাদাপি করছে জানলার পাল্লাদুটো, মাঝে মাঝে বিজলি ঝলকাচ্ছে। ফের শুয়ে পড়তে গিয়ে সেই বিদ্যুতের ছটফটে আলোয় মনে হল ঘরের মধ্যে যেন হামা দিচ্ছে কেউ। -‘কে ওখানে? কে?’ হামা কোনো শব্দই করে…
বন্ধুতা ঈশ্বরপ্রায়, তারই কাছে লিপ্ত হতে পারি। প্রবাসে যাবার জন্য কতটা প্রস্তুত আজ বলো- জানলা দিয়ে দেখি শুধু , খোলা দরজা নেই কোনোখানে এখানে নিজেরই মতো বাঁধা পড়ে আছি বিধিমতে। যে কাঠবেড়ালি রোজ আসা-যাওয়া করত ও-বাগানে কতদিন তার মৃদু পদপাত…
আমাদের ডান পাশে ধ্বস আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ আমাদের মাথায় বোমারু পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ আমাদের পথ নেই কোনো আমাদের ঘর গেছে উড়ে আমাদের শিশুদের শব ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে! আমরাও তবে এইভাবে এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি ? আমাদের পথ…
বড়ো বেশি দেখা হলো যা-দেখার পাপে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভরে যায় ত্রাণহীন নীরন্ধ্র কালিমা। যদিই বাঁচাতে চাও দুই চোখে ঘষে দাও তুঁতে চোখের তারায় দাও তরবারি উদ্দাম লবণ জ্বালাও গন্ধক ধূম হলাহল ধ্বংস করে দাও চেতনা চৈতন্য বোধ লুপ্ত করো…
আজ আর কোনো সময় নেই এই সমস্ত কথাই লিখে রাখতে হবে এই সমস্ত কথাই যে নিঃশব্দ সৈকতে রাত তিনটের বালির ঝড় চাঁদের দিকে উড়তে উড়তে হাহাকারের রুপোলি পরতে পরতে খুলে যেতে দেয় সব অবৈধতা আর সব হাড়পাজরের শাদাধুলো অবাধে ঘুরতে…