Adi Onto kobita Nabanita Devsen আদি-অন্ত – নবনীতা দেবসেন
আমি ছাড়া তোমার আর কে আছে? সে বললো, নীল আকাশ । আকাশ ছাড়া তোমার আর কে আছে ? সে বললো, সবুজ ধান । ধান ছাড়া আর কে আছে ? গেরুয়া নদী। নদীর পরে ? পঞ্চবটি । পঞ্চবটি ছাড়া ? সোনালি…
আমি ছাড়া তোমার আর কে আছে? সে বললো, নীল আকাশ । আকাশ ছাড়া তোমার আর কে আছে ? সে বললো, সবুজ ধান । ধান ছাড়া আর কে আছে ? গেরুয়া নদী। নদীর পরে ? পঞ্চবটি । পঞ্চবটি ছাড়া ? সোনালি…
১ সিঁড়ির ওপরে সিঁড়ি পা রাখি ধীরে, খুব ধীরে শরীরের ধাপ, স্থির অন্ধকারের স্রোত, উৎস, পেতে চাই সারারাত নারী, হে দেবী, চলি, চলি, দুই পাড় চোখের স্তব্ধতা, রক্তের উৎসার ঠোঁট রাখি পাতায়। ফুল ফুটে উঠছে, সিঁড়ির ওপরে সিঁড়ি সারারাত! ২…
আমি ছুঁয়ে যাই তোমার স্বপ্ন, ব্যতিক্রম হাওয়ায় ‘ বলেছিলে, ইন্দ্রনীল সময় ঝরে পড়লে শেষ সূর্যের রশ্মি বুকে মেখে তুমি আসবে। রৌদ্র ভেঙে ভেঙে আশ্বিনের শেষ প্রহরে সূর্য ডুবে যায়, শহরের উচ্চতম অট্টালিকার শীর্ষে এখনও তার স্মৃতিচিহ্ন! অথচ সময় তার কথা…
একেকজন রমণী যেন হারপুন ছুঁড়ে মারে তাক করে ; পিপাসায় শরীর জলে যায় মনে হয়, উড়ে যাই মনে হয়, পুড়ে যাই– ভস্ম হয়ে শুয়ে থাকি তার সেই রমণীর গভীর গোপনে। একেকজন প্রতিমা যেন হারপুন ছুঁড়ে টানে উজ্জ্বল আঁধারে…
বিস্মৃতি শান্তি বুকে আসে, তোমাকে কুড়াই দুৰ্বা ঘাসে। তোমাকে কুড়াই সিঁড়ি, গাড়িবারান্দায়, চিলেকোঠা তোমাকে কিশোরকোল থেকে টেনে আনি যৌবনতলায় তোমার উল্কি আঁকা কাগজের নৌকা বেসে যায়। ভালবাসা এসেছিলে একা একা অন্ধের কৃপাণে । ধার ছিল মাথামুন্ডু কখন নীরবে কেটে গেছে…
একদা কারো ছিল মুখানি মায়ায় মাখা একদা কারো আ-বাঁধা চুলে উথাল রাকা! দাওয়ার নিচে ছায়ায় ভিজে জঙলা মাটি শুষতো শুয়ে আকাশ জোড়া সাঁঝবেলাটি। বৃথাই হলো বেদনা-কালো সেই চারুতা। আসন ঠেলে কোথায় গেলে হা গিরিসুতা! বাদুড় ঝোলা ডুমুর ডাল আলুলকেশী, পালিয়ে…