Kripon poem by Rabindranath Tagore কৃপণ কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমি ভিক্ষা করে ফিরতেছিলেম গ্রামের পথে পথে, তুমি তখন চলেছিলে তোমার স্বর্ণরথে। অপূর্ব এক স্বপ্ন-সম লাগতেছিল চক্ষে মম- কী বিচিত্র শোভা তোমার, কী বিচিত্র…
আমি ভিক্ষা করে ফিরতেছিলেম গ্রামের পথে পথে, তুমি তখন চলেছিলে তোমার স্বর্ণরথে। অপূর্ব এক স্বপ্ন-সম লাগতেছিল চক্ষে মম- কী বিচিত্র শোভা তোমার, কী বিচিত্র…
গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান, নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। ‘পূজারী, দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হ’ল!’ স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল…
বসন্ত নয়, আমার দরজায় প্রথম কড়া নেড়েছিলো অবহেলা ভেবেছিলাম, অনেকগুলো বর্ষা শেষে শরতের উষ্ণতা মিশে এলো বুঝি বসন্ত! দরজা খুলে দেখি আমাকে ভালোবেসে এসেছে অবহেলা মধ্য দুপুরের তির্যক রোদের মতো অনেকটা নির্লজ্জভাবে আমাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত অবহেলা আমি…
“রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! বারেক ফিরে চাও, বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁ, কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা, সেথায় আছে ছোট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া, সাঁঝ-আকাশের…
পাহাড়িয়া মধুপুর, মেঠো ধূলিপথ দিনশেষে বৈকালি মিষ্টি শপথ; ‘মােহনিয়া বন্ধু রে! আমি বালিকা তােরই লাগি গান গাই, গাঁথি মালিকা।’ ‘আজও সন্ধ্যার শেষে খালি বিছানা; আমি শােব, পাশে মাের কেউ শােবে না- তুই ছাড়া এই দেহ কেউ ছোঁবে না।’…
যে ছেলেটা চায়ের দোকানে এঁটো কাপ ধুচ্ছে রাস্তার ধারে, তাকে ডাকুন। তার কানে কানে বলুন সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাং, হ্যা, বেশ সুন্দর করে বলুন, যে মেয়েটা চাকরীর নাম করে বনগা কিংবা চাকদা থেকে রােজ সকালের ট্রেনে সেজেগুজে শহরে আসছে,…