জীবনানন্দ দাশ

হেমন্ত কুয়াশায় — জীবনানন্দ দাশ

সকাল-সন্ধ্যাবেলা আমি সেই নারীকে দেখেছি জেনেছি অনেক দিন- তারপর তবুও ভেবেছি। তারপর ঢের দিন পৃথিবীর সেই শাদা সাধারণ কথা ছোট বড় জিনিসের বিস্মরণে ক্রমে ভুলে গেছি। আকাশ আমাকে বলেঃ ‘সে না তুমি আত্মসমাহিতি?’ পৃথিবী আমাকে দেখে ভেবে যায়ঃ ‘এর প্রাণে,…

Read Moreহেমন্ত কুয়াশায় — জীবনানন্দ দাশ

আলেয়া — জীবনানন্দ দাশ

প্রান্তরের পারে তব তিমিরের খেয়া নীরবে যেতেছে দুলে নিদালি আলেয়া! -হেথা, গৃহবাতায়নে নিভে গেছে প্রদীপের শিখা, ঘোমটায় আঁখি ঘেরি রাত্রি-কুমারিকা চুপে চুপে চলিতেছে বনপথ ধরি! আকাশের বুকে বুকে কাহাদের মেঘের গাগরী ডুবে যায় ধীরে ধীরে আঁধার সাগরে! ঢুলু-ঢুলু তারকার নয়নের…

Read Moreআলেয়া — জীবনানন্দ দাশ

মানুষের মৃত্যু হ’লে (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

মানুষের মৃত্যু হ’লে তবুও মানব থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে।   আজকের আগে যেই জীবনের ভিড় জমেছিলো তা’রা ম’রে গেছে; প্রতিটি মানুষ তার নিজের স্বতন্ত্র সত্তা নিয়ে অন্ধকারে হারায়েছে; তবু তা’রা আজকের…

Read Moreমানুষের মৃত্যু হ’লে (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

সৃষ্টির তীরে (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

বিকেলের থেকে আলো ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে নিভে যায়— তবু ঢের স্মরণীয় কাজ শেষ হ’য়ে গেছে: হরিণ খেয়েছে তার আমিষাশী শিকারীর হৃদয়কে ছিঁড়ে; সম্রাটের ইশারায় কঙ্কালের পাশাগুলো একবার সৈনিক হয়েছে; সচ্ছল কঙ্কাল হ’য়ে গেছে তারপর; বিলোচন গিয়েছিলো বিবাহ-ব্যাপারে; প্রেমিকেরা সারাদিন কাটায়েছে…

Read Moreসৃষ্টির তীরে (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

উত্তরপ্রবেশ (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

পুরোনো সময় সুর ঢের কেটে গেল। যদি বলা যেত: সমুদ্রের পারে কেটে গেছে, সোনার বলের মতো সূর্য ছিলো পুবের আকাশে— সেই পটভূমিকায় ঢের ফেনশীর্ষ ঢেউ, উড়ন্ত ফেনার মতো অগণন পাখি। পুরোনো বছর দেশ ঢের কেটে গেল রোদের ভিতরে ঘাসে শুয়ে;…

Read Moreউত্তরপ্রবেশ (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

সূর্যতামসী (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ

কোথাও পাখির শব্দ শুনি; কোনো দিকে সমুদ্রের সুর; কোথাও ভোরের বেলা র’য়ে গেছে— তবে। অগণন মানুষের মৃত্যু হ’লে— অন্ধকারে জীবিত ও মৃতের হৃদয় বিস্মিতের মতো চেয়ে আছে; এ কোন্ সিন্ধুর স্বর: মরণের— জীবনের? এ কি ভোর? অনন্ত রাত্রির মতো মনে…

Read Moreসূর্যতামসী (কবিতা) – জীবনানন্দ দাশ