
সুতরাং (কবিতা) – সুকান্ত ভট্টাচার্য
এত দিন ছিল বাঁধা সড়ক, আজ চোখে দেখি শুধু নরক! অত আঘাত কি সইবে, যদি না বাঁচি দৈবে? চারি পাশে লেগে গেছে মড়ক! বহুদিনকার উপার্জন, আজ দিতে হবে বিসর্জন। নিষ্ফল যদি পন্থা, সুতরাং ছেঁড়া কন্থা মনে হয় শ্রেয় বর্জন॥

এত দিন ছিল বাঁধা সড়ক, আজ চোখে দেখি শুধু নরক! অত আঘাত কি সইবে, যদি না বাঁচি দৈবে? চারি পাশে লেগে গেছে মড়ক! বহুদিনকার উপার্জন, আজ দিতে হবে বিসর্জন। নিষ্ফল যদি পন্থা, সুতরাং ছেঁড়া কন্থা মনে হয় শ্রেয় বর্জন॥

গন্ধ এনেছে তীব্র নেশায়, ফেনিল মদির, জোয়ার কি এল রক্ত নদীর? নইলে কখনো নিস্তার নেই বন্দীশালায়। সচারাচর কি সামনা সামনি ধূর্ত পালায়? কাজ নেই আর বল্লাল সেন-ই আমলে, মুক্তি পেয়েছি ধোঁয়াতে নিবিড় শ্যামলে, তোমাতে আমাতে চিরদিন চলে দ্বন্দ্ব। ঠাণ্ডা হাওয়ায়…

কালো মৃত্যুরা ডেকেছে আজকে স্বয়ম্বরায়, নানাদিকে নানা হাতছানি দেখি বিপুল ধরায়। ভীত মন খোঁজে সহজ পন্থা, নিষ্ঠুর চোখ ; তাই বিষাক্ত আস্বাদময় এ মর্তলোক, কেবলি এখানে মনের দ্বন্দ আগুন ছড়ায়। অবশেষে ভুল ভেঙেছে, জোয়ার মনের কোণে, তীব্র ভ্রূকুটি হেনেছি…

মুখে-মৃদু-হাসি অহিংস বুদ্ধের ভূমিকা চাই না। ডাক ওঠে যুদ্ধের। গুলি বেঁধে বুকে উদ্ধত তবু মাথা– হাতে হাতে ফেরে দেনা-পাওনার খাতা, শোনো হুঙ্কার কোটি অবরুদ্ধের। দুর্ভিক্ষকে তাড়াও, ওদেরও তাড়াও– সন্ধিপত্র মাড়াও, দু’পায়ে মাড়াও। তিন-পতাকার মিনতি : দেবে না সাড়াও? অসহ্য জ্বালা…

কারা যেন আজ দুহাতে খুলেছে, ভেঙেছে খিল, মিছিলে আমরা নিমগ্ন তাই দোলে মিছিল। দুঃখ-যুগের দারায় দারায় যারা আনে প্রাণ, যারা তা হারায় তারাই ভরিয়ে তুলেছে সাড়ায় হৃদয়-বিল। তারাই এসেছে মিছিলে, আজকে চলে মিছিল ॥ কে যেন ক্ষুব্ধ ভোমরার চাকে…

ভারতবর্ষে পাথরের গুরুভার : এহেন অবস্থাকেই পাষাণ বলো, প্রস্তরীভূত দেশের নীরবতার একফোঁটা নেই অশ্রুও সম্বলও। অহল্যা হল এই দেশ কোন্ পাপে ক্ষুধার কান্না কঠিন পাথরে ঢাকা, কোনো সাড়া নেই আগুনের উত্তাপে এ নৈঃশব্দ্য বেঙেছে কালের চাকা। ভারতবর্ষ! কার…