হে সময়, অশ্বারোহী হও – পূর্ণেন্দু পত্রী
বিরক্ত নদীর মতো ভুরু কুঁচকে বসে আছে আমাদের কাল। যাচ্ছি যাব, যাচ্ছি যাব এই গড়িমসি করে চূড়ো ভাঙা চাকা ভাঙা রথ যে রকম ঘাড় গুজে ধুলোয় কাতর, সে রকমই শুয়ে বসে আছে। খেয়াঘাটে পারাপার ভুলে-যাওয়া, নৌকার মতন, সময় এখন। …
বিরক্ত নদীর মতো ভুরু কুঁচকে বসে আছে আমাদের কাল। যাচ্ছি যাব, যাচ্ছি যাব এই গড়িমসি করে চূড়ো ভাঙা চাকা ভাঙা রথ যে রকম ঘাড় গুজে ধুলোয় কাতর, সে রকমই শুয়ে বসে আছে। খেয়াঘাটে পারাপার ভুলে-যাওয়া, নৌকার মতন, সময় এখন। …
আগামী চোদ্দ বছর মহিষ কিংবা নেউল রঙের মেঘের মুখদর্শন করব না কেউ। আগামী চোদ্দ বছর আমাদের কবিতা থেকে হিজড়ে-নাচন বৃষ্টির নির্বাসন। স্বেচ্ছাচারী এবং হামলাবাজ হাওয়াকে চোদ্দ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি আমি আর পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় টেলিফোনে ট্রাঙ্কলে রেডিওগ্রামে জানিয়ে দিয়েছি…
একটি উজ্জ্বল ষাঁড় লিফটে চেপে উর্ধ্বে উঠে যান, তখনই বন্দনা গান গেয়ে ওঠে, একপাল কৃতার্থ ছাগল। জুলিয়াস সীজারের মতো তিনি, মিশরের ফারাও এর মতো যেন এই শতাব্দীর তরুণ-বয়সী এক নবতম আলোকজান্ডার পাতলা ক্রীমের মতো বুদ্ধের মহন হাসি মুখে চেঙ্গিস খানের…
জলেও কি ট্রাম-বাস চলে? জলেও কি আছে ছাপাখানা? ২৫শে বৈশাখ এলে জলের ভিতরে মাছ, নক্ষত্রের ঝাঁক তারাও কি কবিতার খাতা খুলে বসে? যোগো, জলের ভিতরে গিয়ে কার কার কবিতা কুড়োলি? নিজের খাটের চেয়ে শ্যাওলার বিছানা কি অধিক নরম? তুই কি…
দেরাদুন এক্সপ্রেস পড়ি-মরি দৌড়ে ছুটে গেল। কাকে ছুঁতে? জ্বলজ্বলে যুবক সেজে কার কাছে গেল? ডাকাতের মতো কালো অন্ধকারে, এই মাঝরাতে কাকে খুলে দেবে বলে পরেছে আলোয়-গাঁথা হার? চোখে তার জঙ্গলের খিদে-পাওয়া লাল চিতাবাঘ এই বন্য থাবা দিয়ে কাকে সে জড়াবে?…
সুখে আছি, দুখে আছি, নিজস্ব বুদবুদে ডুবে আছি পোয়াতি নারীর মতো গর্তে বহু স্বপনের ভ্রুণ নিয়ে আছি সধবার নিরস্তর ভয় পাছে মুছে যায় সিঁথি-শুকজতারা সে রকমই ভয়ে-ভয়ে ঘাসের ভিতরে পোকা-মাকড়ের সঙ্গী হয়ে আছি। পাখিরা রয়েছে সঙ্গে, রুমালের পাড়ে লাল সুতো,…