তোমার মুখের দিকে – পূর্ণেন্দু পত্রী
প্রণাম করব। কিন্তু পা কই? আগুনে ও হিমজলে পা ডুবিয়ে এখনো তো তাঁর অফুরাণ হাঁটা বরণ করব। কিন্তু কই সে শব্দদল যা ছুঁতে পারে তাঁর বোধের এলাকা? তাহলে? জ্বলন্ত সিড়ি ভেঙে ভেঙে শিখরের দিকে যাঁর এগিয়ে চলা, অনুজের অভ্যর্থনা…
প্রণাম করব। কিন্তু পা কই? আগুনে ও হিমজলে পা ডুবিয়ে এখনো তো তাঁর অফুরাণ হাঁটা বরণ করব। কিন্তু কই সে শব্দদল যা ছুঁতে পারে তাঁর বোধের এলাকা? তাহলে? জ্বলন্ত সিড়ি ভেঙে ভেঙে শিখরের দিকে যাঁর এগিয়ে চলা, অনুজের অভ্যর্থনা…
আগুনে আঙুল রেখে ঠায় বসে আছি কেউ ডাকলে যাতে সাড়া পায়। ঘরের বাইরে গোল সার্কাসের মাঠ। নিরাপত্তা-বিধায়ক যথারীতি ভেজানো কপাট। কবে বৃষ্টি হয়েছিল তারই বাসি গন্ধ শোঁকে মাটি। বুদ্ধিজীবী বাতাসের চতুষ্পাঠী চেপেছে নিলামে। মুখ-আঁটা গোপনীয় খামে চিঠি চালাচালি…
বইয়ের উপর থেকে ধুলো মুছে নিলে আরো ধুলো রয়ে যায় অক্ষরের স্থাপত্যকে ঘিরে। ফলে ব্যাঙই সাপ খায় গিলে। মানুষ যেযার মতো চোখে-ধুলো ব্যাখ্যা দিতে জানে, সূর্য, শিল্প, শ্রম, শান্তি, শস্য বা সংহতি আগুন-বীজের মতো এইসব মহাপ্রাণ শব্দেরও সহজতর মানে।…
যে আমাকে অমরতা দেবে সে তোমার ছাপাখানা নয়, সে আমার সত্তার সংগ্রাম নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়।
তোমারি সঙ্গে যুদ্ধ প্রহরে প্রহরে তোমারই সঙ্গে সন্ধি, তোমারই মূর্তি নির্মাণে আমি নিজেকে করেছি পাথর চূর্ণ। সর্বনাশের পাশা নিয়ে খেলা দুজনের, অথচ লক্ষ্য শান্তি। আক্রমণের তীর ও ধনুকে জ্বলছে ক্ষমার সৌরদীপ্তি। তোমার মৃত্যু যখন আমার কান্নায় তুমি উল্লাসে পদ্ম,…
বিরক্ত নদীর মতো ভুরু কুঁচকে বসে আছে আমাদের কাল। যাচ্ছি যাব, যাচ্ছি যাব এই গড়িমসি করে চূড়ো ভাঙা চাকা ভাঙা রথ যে রকম ঘাড় গুজে ধুলোয় কাতর, সে রকমই শুয়ে বসে আছে। খেয়াঘাটে পারাপার ভুলে-যাওয়া, নৌকার মতন, সময় এখন। …