এ যেন এক অলীক শহরের গপ্পো
তার ঘর বাড়িগুলো দেখতে ঝকঝকে
যেন বা ডানা মেলে এখুনি উড়ে এসেছে
অন্য গ্রহ থেকে।
তাদের এক ঝুল-বারান্দায় লম্বা জোব্বা আর মেঘের টুপি পরে
দাঁড়িয়ে শিস দিচ্ছেন শহরের মেয়র।
রাস্তায় রাস্তায় উজ্জ্বল রূপোলি আলােগুলাে
কামরাঙা ফলের মতাে
হেলমেটপরা ট্রাফিক পুলিশের মাথায় চুমু খাচ্ছে।
শহরের টুরিস্ট নারীদের দিকে না তাকানােই এখন ভব্যতা
কেননা ওরা জন্মদিনের পােশাকে
স্নান করতে নেমেছেন নদীতে।
আশ্বিনের মেঘ দেখলেই
ওদের বাড়ির কথা মনে পড়ে যাবে।
তখন ভিনাস ডি মিলোর ভঙ্গিতে জল থেকে উঠে এসে
নিজস্ব স্বর্গে ফিরে যাবেন লক্ষ্মী মেয়ের মতাে
সবার হাঁ-করা মুখের ওপর দিয়ে।
অলীক শহরটা সেদিন খুব বেজার হবে তাদের ব্যবহারে
তার বুকটা টনটন করে উঠবে ব্যথায়।
ওরা ভাবতে থাকবে
কবে আবার পাখিরা আসবে তার সাজানো বাগানে
কবে তার গাছপালাগুলো আবার সবুজের কনসার্ট বাজাবে ভােরবেলা।
শুধু ফুটপাতের ভিখিরি শিশুটা
খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠবে তিনবার।
শহরের মেয়র তিন সত্যি করেছিলেন
ওকে এবার শীতে একটা কম্বল দেওয়া হবে।
সেদিন থেকে সে স্বপ্ন দেখে
সবার গায়ে রঙ-বেরঙের পশমের পােশাক
সেই শুধু ঠকঠক করে কাঁপছে বােকার মতাে
মেয়রের ম্যাজিকে যদি তার সেই কাপুনিটা থেমে যায়
তাই সে হাততালি দিয়ে উঠল খুশিতে।
