
যেদিন নীরব হবো আমাকে কোরাে না তুমি ক্ষমা।
কেননা অনন্ত কাল ব্যাপ্ত করে আয়ুর আঁধার
উপরে এসেছে নেমে—বৎসরে বৎসর যায়, ডুবে যায় দীনা
শ্বেত-সূর্যের রাত্রি। অবসন্ন বাঁধের ওপার
দিয়ে সে শুধু গড়ায়। ধূসর জলের তীরে
তাকে দাও খুলে।
আজো কি বিকেল নয় তত দূর অশ্রুজলপ্লাবী ?
অথবা অগ্নিকুণ্ড আজো নয় আগুনে বিশাল ?
যেখানে চলেছে রাত্রি, অর্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপি, কিছু বা সন্তাপ,
অথবা, জেনেছে অগ্নি তুমি শুধু দরিদ্র একাকী
যে তার মার্জনা চায়।
আমি চাই শবের উত্থান
দুর্গের প্রাকারতলে, শােনাে দূরে গােধূলির ধ্বনি,
শােনো উঁচু শিখরে শিখরে হারা পর্বতের গান-
পশ্চিমদুয়ার খুলে নেমে এসাে এই জনপদে।
যেদিন নীরব হবাে নিজেকে বােলাে না তুমি ‘ক্ষমা
অভিসম্পাতের মতাে’—কেননা আগুন জানে ভস্মের বার্তা সব
সে কি জানে দিতে আমার শঠতাগুলি ইন্দ্রিয়প্রহত ?
নিশাজাগরূক ঘণ্টা কেন বাজে এই অবেলায় ?