
Biday poem by Rabindranath Tagore বিদায় কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তবে আমি যাই গো তবে যাই ভোরের বেলা শূন্য কোলে ডাকবি যখন খোকা বলে, বলব আমি, ‘নাই সে খোকা নাই।’ মা গো, যাই। হাওয়ার সঙ্গে হাওয়া হয়ে…

তবে আমি যাই গো তবে যাই ভোরের বেলা শূন্য কোলে ডাকবি যখন খোকা বলে, বলব আমি, ‘নাই সে খোকা নাই।’ মা গো, যাই। হাওয়ার সঙ্গে হাওয়া হয়ে…

আরঙজেব ভারত যবে করিতেছিল খান-খান মারবপতি কহিলা আসি, ‘করহ প্রভু অবধান, গোপন রাতে অচলগড়ে নহর যাঁরে এনেছ ধরে সিরোহিপতি সুরতান। কী অভিলাষ তাঁহার ‘পরে আদেশ মোরে করো দান।’ শুনিয়া কহে আরঙজেব, ‘কি কথা শুনি অদ্ভুত! এতদিনে কি পড়িল…

মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে। তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে, আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ‘পরে টগ্বগিয়ে তোমার পাশে পাশে। রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে।…

আমার মা না হয়ে তুমি আর কারো মা হলে ভাবছ তোমায় চিনতেম না, যেতেম না ঐ কোলে? মজা আরো হত ভারি, দুই জায়গায় থাকত বাড়ি, আমি থাকতেম এই গাঁয়েতে, তুমি পারের গাঁয়ে। এইখানেতে দিনের বেলা যা-কিছু সব…

শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’ কহিলাম আমি, ‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই – চেয়ে দেখো মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাঁই। শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জানো তো…

খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফিরে পরশপাথর। মাথায় বৃহৎ জটা ধূলায় কাদায় কটা, মলিন ছায়ার মতো ক্ষীণ কলেবর। ওষ্ঠে অধরেতে চাপি অন্তরের দ্বার ঝাঁপি রাত্রিদিন তীব্র জ্বালা জ্বেলে…