
সতী (ও বাপুন ও বাপুন রে) – দেবব্রত সিংহ
“ও বাপুন ও বাপুন রে আমি তোর মা রে বাপুন আমি তোর মা একবার চল বাপ তোর বাবার শেষ কাজ টুকুন করবি চল” কোনো সাড়া নেই কোনো শব্দ নেই শব্দ বলতে যেটুকু সে হলো আশপাশের ভদ্রলোকদের, একতলা দোতলা বাড়ির দুমদাম…

“ও বাপুন ও বাপুন রে আমি তোর মা রে বাপুন আমি তোর মা একবার চল বাপ তোর বাবার শেষ কাজ টুকুন করবি চল” কোনো সাড়া নেই কোনো শব্দ নেই শব্দ বলতে যেটুকু সে হলো আশপাশের ভদ্রলোকদের, একতলা দোতলা বাড়ির দুমদাম…

ঐ যে গাঁ-টি যাচ্ছে দেখা ‘আইরি’-ক্ষেতের আড়ে— প্রান্তটি যার আঁধার-করা সবুজ কেয়াঝাড়ে, পূবের দিকে আম-কাঁঠালের বাগান দিয়ে ঘেরা, জটলা করে যাহার তলে রাখাল-বালকেরা— ঐটি আমার গ্রাম— আমার স্বর্গপুরী, ঐখানেতে হৃদয় আমার গেছে চুরি! বাঁশবাগানের পাশটি দিয়ে পাড়ার পথটি বাঁকা,…

যখন মৃত্যুর ঘুমে শুয়ে রবো — অন্ধকারে নক্ষত্রের নিচে কাঁঠাল গাছের তলে হয়তো বা ধলেশ্বরী চিলাইয়ের পাশে – দিনমানে কোনো মুখ হয়তো সে শ্মশানের কাছে নাহি আসে – তবুও কাঁঠাল জাম বাংলার- তাহাদের ছায়া যে পড়িছে আমার বুকের পরে…

আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে বসে থাকি; কামরাঙা লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে-আসিয়াছে শান- অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা-কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে; আমার চোখের পরে আমার মুখের পরে চুল তার…

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর…

ছিপখান তিন-দাঁড় — তিনজন মাল্লা চৌপর দিন-ভোর দ্যায় দূর-পাল্লা! পাড়ময় ঝোপঝাড় জঙ্গল-জঞ্জাল, জলময় শৈবাল পান্নার টাঁকশাল। কঞ্চির তীর-ঘর ঐ-চর জাগছে, বন-হাঁস ডিম তার শ্যাওলায় ঢাকছে। চুপ চুপ – ওই ডুব দ্যায় পান্ কৌটি দ্যায় ডুব টুপ টুপ ঘোমটার বৌটি!…