
যোগো – পূর্ণেন্দু পত্রী
জলেও কি ট্রাম-বাস চলে? জলেও কি আছে ছাপাখানা? ২৫শে বৈশাখ এলে জলের ভিতরে মাছ, নক্ষত্রের ঝাঁক তারাও কি কবিতার খাতা খুলে বসে? যোগো, জলের ভিতরে গিয়ে কার কার কবিতা কুড়োলি? নিজের খাটের চেয়ে শ্যাওলার বিছানা কি অধিক নরম? তুই কি…

জলেও কি ট্রাম-বাস চলে? জলেও কি আছে ছাপাখানা? ২৫শে বৈশাখ এলে জলের ভিতরে মাছ, নক্ষত্রের ঝাঁক তারাও কি কবিতার খাতা খুলে বসে? যোগো, জলের ভিতরে গিয়ে কার কার কবিতা কুড়োলি? নিজের খাটের চেয়ে শ্যাওলার বিছানা কি অধিক নরম? তুই কি…

একটি ময়ুর তার পেখমের সবটুকু অভ্র ও আবীর দিয়েছে আমাকে। একটি ময়ূর তার হৃদয়ের বিছানা বালিশে মশারির টাঙানো খাটে, দরজায়, জানালায়, নীল আয়নায় অতিথিশালার মতো যখন-তখন এসে ঘুমোবার, হেঁটে বেড়াবার সুখটুকু, স্বাধীনতাটুকু সোনার চাবির মতো হাতে তুলে দিয়েছে স্বেচ্ছায়। এটোঁ…

দেরাদুন এক্সপ্রেস পড়ি-মরি দৌড়ে ছুটে গেল। কাকে ছুঁতে? জ্বলজ্বলে যুবক সেজে কার কাছে গেল? ডাকাতের মতো কালো অন্ধকারে, এই মাঝরাতে কাকে খুলে দেবে বলে পরেছে আলোয়-গাঁথা হার? চোখে তার জঙ্গলের খিদে-পাওয়া লাল চিতাবাঘ এই বন্য থাবা দিয়ে কাকে সে জড়াবে?…

সুখে আছি, দুখে আছি, নিজস্ব বুদবুদে ডুবে আছি পোয়াতি নারীর মতো গর্তে বহু স্বপনের ভ্রুণ নিয়ে আছি সধবার নিরস্তর ভয় পাছে মুছে যায় সিঁথি-শুকজতারা সে রকমই ভয়ে-ভয়ে ঘাসের ভিতরে পোকা-মাকড়ের সঙ্গী হয়ে আছি। পাখিরা রয়েছে সঙ্গে, রুমালের পাড়ে লাল সুতো,…

স্বরচিত নির্জনতা, সযত্ন-সৃজিত নির্জনতা তুমি আছ পার্শ্ববর্তী,কী অপুর্ব সুখ। বাইরে ভুলের হাওয়া বইছে বহুক। পল্লবেরা মরে শুধু পল্লবেরা অবেলায় ঝরে পল্লবেরা কাঁপে গায়ে হতাশার জর বনস’লী ভুলে গেছে নিজস্ব মর্মর। আদিম চীৎকার তুলে কাপালিক মগ্ন মন্ত্র পাঠে অশ্রুধ্বনি নাভীমূলে…

এইখানে সব আছে। স্তব্ধতার মুখে শুনতে পাবে অবিরল সলজ্জ সংলাপ দৃষ্টি যদি ডুবে যায় তরল আঁধারে তবু কারো নিংশ্বাসের উজ্জল উত্তাপ। তোমাকে রঙিন করে দেবে স্পর্শ সুখে। নিয়ে এসো দিনাস্তের অসংখ্য বিলাপ কে তাকে উড়িয়ে দেবে গানের পাখির পাখনায়…