
Barsho sesh kobita Shukumar Ray বর্ষ শেষ কবিতা সুকুমার রায়
শুন রে আজব কথা, শুন বলি ভাইরে— বছরের আয়ু দেখ বেশিদিন নাই রে। ফেলে দিয়ে পুরাতন জীর্ণ এ খোলসে নূতন বরষ আসে, কোথা হতে বল সে ! কবে যে দিয়েছে চাবি জগতের যন্ত্রে, সেই দমে আজও চলে না জানি…

শুন রে আজব কথা, শুন বলি ভাইরে— বছরের আয়ু দেখ বেশিদিন নাই রে। ফেলে দিয়ে পুরাতন জীর্ণ এ খোলসে নূতন বরষ আসে, কোথা হতে বল সে ! কবে যে দিয়েছে চাবি জগতের যন্ত্রে, সেই দমে আজও চলে না জানি…

মাগো! প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটা গুড় মাখিয়ে আরাম ক’রে বসে— আমায় দেখে একটা দিল ,নয়কো তাও বড়টা, দুইখানা সেই আপনি খেল ক’ষে! তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়ে কিল মেরেছি ‘হ্যাংলা ছেলে’ বলে— অম্নি কিনা মিথ্যা…

আকাশের ময়দানে বাতাসের ভরে, ছোট বড় সাদা কালো কত মেঘ চরে। কচি কচি থোপা থোপা মেঘেদের ছানা হেসে খেলে ভেসে যায় মেলে কচি ডানা। কোথা হতে কোথা যায় কোন্ তালে চলে, বাতাসের কানে কানে কত কথা বলে। বুড়ো বুড়ো…

খাই খাই করো কেন, এসো বসো আহারে— খাওয়াব আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে। যত কিছু খাওয়া লেখে বাঙালির ভাষাতে, জড় করে আনি সব— থাক সেই আশাতে। ডাল ভাত তরকারি ফল-মূল শস্য, আমিষ ও নিরামিষ, চর্ব্য ও চোষ্য, রুটি লুচি,…

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা, হাসির কথা শুনলে বলে, “হাসব্ না-না, না-না”। সদাই মরে ত্রাসে— ঐ বুঝি কেউ হাসে! এক চোখে তাই মিট্মিটিয়ে …

রোদে রাঙা ইঁটের পাঁজা তার উপরে বসল রাজা— ঠোঙাভরা বাদামভাজা খাচ্ছে কিন্তু গিলছে না৷ গায়ে আঁটা গরম জামা পুড়ে পিঠ হচ্ছে ঝামা; রাজা বলে, ‘বৃষ্টি নামা— নইলে কিচ্ছু মিলছে না৷’ থাকে সারা দুপুর ধ’রে ব’সে ব’সে চুপটি ক’রে, হাঁড়িপানা…