
স্বাধীনতা (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Sadhinota poem Rabindranath
শর ভাবে, ছুটে চলি, আমি তো স্বাধীন, ধনুকটা একঠাঁই বদ্ধ চিরদিন। ধনু হেসে বলে, শর, জান না সে কথা— আমারি অধীন জেনো তব স্বাধীনতা। কাব্যগ্রন্থ: কণিকা।

শর ভাবে, ছুটে চলি, আমি তো স্বাধীন, ধনুকটা একঠাঁই বদ্ধ চিরদিন। ধনু হেসে বলে, শর, জান না সে কথা— আমারি অধীন জেনো তব স্বাধীনতা। কাব্যগ্রন্থ: কণিকা।

১ হিমাদ্রি শিখরে শিলাসন – ‘ পরি , গান ব্যাসঋষি বীণা হাতে করি — কাঁপায়ে পর্বত শিখর কানন , কাঁপায়ে নীহারশীতল বায় । ২ স্তব্ধ শিখর স্তব্ধ তরুলতা , স্তব্ধ মহীরূহ নড়েনাকো পাতা । বিহগ নিচয় নিস্তব্ধ অচল ;…

স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ — অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ। শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাদঁরে উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে — একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড় , চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড় । সহসা মিলালো তারা…

নদীতীরে বৃন্দাবনে সনাতন একমনে জপিছেন নাম, হেনকালে দীনবেশে ব্রাহ্মণ চরণে এসে করিল প্রণাম। শুধালেন সনাতন, ‘কোথা হতে আগমন, কী নাম ঠাকুর?’ বিপ্র কহে, ‘কিবা কব, পেয়েছি দর্শন তব ভ্রমি বহুদূর। জীবন আমার নাম, মানকরে মোর ধাম, জিলা বর্ধমানে— এতবড়ো ভাগ্যহত…

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি, গ্লানিহীন দিনগুলি, সেই সন্ধ্যাস্নান, সেই গোচারণ, সেই শান্ত সামগান, নীবারধান্যের মুষ্টি, বল্কলবসন, মগ্ন হয়ে আত্মমাঝে নিত্য আলোচন…

বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয় । অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময় লভিব মুক্তির স্বাদ । এই বসুধার মৃত্তিকার পাত্রখানি ভরি বারম্বার তোমার অমৃত ঢালি দিবে অবিরত নানাবর্ণগন্ধময় । প্রদীপের মতো সমস্ত সংসার মোর লক্ষ বর্তিকায় জ্বালায়ে তুলিবে আলো তোমারি শিখায়…