
এই অবেলায় – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
ওই যে গোলাপ দুলছে, ও কি ফুল না আগুন, ঠিক বুঝি না। এগিয়ে গিয়ে পিছিয়ে আসি, ভাবতে থাকি ধরব কি না। ভাবতে থাকি, ঠিক কতবার ফুলের বনে ভুল দেখেছি। ভরদুপুরে গোলাপ ভেবে অগ্নিশিখায় হাত রেখেছি। গোলাপ, তুমি গোলাপ…

ওই যে গোলাপ দুলছে, ও কি ফুল না আগুন, ঠিক বুঝি না। এগিয়ে গিয়ে পিছিয়ে আসি, ভাবতে থাকি ধরব কি না। ভাবতে থাকি, ঠিক কতবার ফুলের বনে ভুল দেখেছি। ভরদুপুরে গোলাপ ভেবে অগ্নিশিখায় হাত রেখেছি। গোলাপ, তুমি গোলাপ…

আকাঙ্ক্ষা তাকে শান্তি দেয়নি, শান্তির আশা দিয়ে বার বার লুব্ধ করেছে। লোভ তাকে দূর দুঃস্থ পাপের পথে টেনে নিয়ে তবুও সুখের ক্ষুধা মেটায়নি দিনে দিনে আরও নতুন ক্ষুধার…

নীরা, তুমি নিরন্নকে মুষ্টিভিক্ষা দিলে এইমাত্র আমাকে দেবে না? শ্মশানে ঘুমিয়ে থাকি, ছাই-ভস্ম খাই, গায়ে মাখি নদী-সহবাসে কাটে দিন এই নদী গৌতম বুদ্ধকে দেখেছিল পরবর্তী বারুদের আস্তরণও গায়ে মেখেছিল এই নদী তুমি! বড় দেরি হয়ে গেল, আকাশে পোশাক হতে বেশি…

ভ্রূ-পল্লবে ডাক দিলে, দেখা হবে চন্দনের বনে- সগন্ধের সঙ্গে পাবো, দ্বিপ্রহরে বিজন ছায়ায় আহা, কি শীতল স্পর্শ হৃদয়-ললাটে, আহা, চন্দন চন্দন দৃষ্টিতে কি শান্তি দিলে, চন্দন, চন্দন আমি বসে থাকবো দীর্ঘ নিরালায় প্রথম যৌবনে আমি অনেক ঘুরেছি অন্ধ, শিমূলে জরুলে…

শেষ ভালোবাসা দিয়েছি তোমার পূর্বের মহিলাকে এখন হৃদয় শূন্য, যেমন রাত্রি রাজপথ ঝকমক করে কঠিন সড়ক, আলোয় সাজানো, প্রত্যেক বাঁকে বাঁকে প্রতীক্ষা আছে আঁধারে লুকানো তবু জানি চিরদিন এ-পথ্ থাকবে এমনি সাজানো, কেউ আসবে না, জনহীন, প্রেমহীন শেষ ভালোবাসা দিয়েছি…

বাস স্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে–দিকচিহ্নহীন – বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর, হাওয়ার ভিতরে তোমাকে দেখছি কাল স্বপ্নে, নীরা, ওষধি স্বপ্নের নীল দুঃসময়ে। দক্ষিণ সমুদ্রদ্বারে গিয়েছিলে কবে, কার সঙ্গে?…