
আতাচোরা (কবিতা) – শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে হলুদ ? বাঁশ বাগানে যাইনে ফুল তুলিতে পাইনে কলুদ হলুদ বনের কলুদ ফুল বটের শিরা জবার মূল পাইতে দুধের পাহাড় কুলের বন পেরিয়ে গিরি গোবর্ধন নাইতে ঝুমরি তিলাইয়ার কাছে যে…

আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে হলুদ ? বাঁশ বাগানে যাইনে ফুল তুলিতে পাইনে কলুদ হলুদ বনের কলুদ ফুল বটের শিরা জবার মূল পাইতে দুধের পাহাড় কুলের বন পেরিয়ে গিরি গোবর্ধন নাইতে ঝুমরি তিলাইয়ার কাছে যে…

মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও। তোমাকে সেই সকাল থেকে তোমার মতো মনে পড়ছে সন্ধে হলে মনে পড়ছে, রাতের বেলা মনে…

আসলে কেউ বড়ো হয় না, বড়োর মত দেখায়, নকলে আর আসলে তাকে বড়োর মত দেখায় গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, দেখবে কত ছোটো, সোনার তাল তাংড়ে ধরে পেয়েছো ধূলিমুঠো। ভালবাসার দীঘিতে কত করেছো অবগাহন পেয়েছ সুখ দু:খ আর ছলে ভোলানো…

গাছগুলো তুলে আনো, বাগানে বসাও আমাদের দরকার শুধু গাছ দেখা গাছ দেখে যাওয়া গাছের সবুজ টুকু শরীরে দরকার আরোগ্যের জন্য ওই সবুজের ভীষণ দরকার বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন বহুদিন জঙ্গলে যায়নি বহুদিন শহরেই আছি শহরের অসুখ হা করে কেবল…

কিছুকাল সুখ ভোগ করে হলো মানুষের মতো মৃত্যু ওর, কবি ছিল, লোকটা কাঙালও ছিল খুব। মারা গেলে মহোৎসব করেছিল প্রকাশকগণ, কেননা, লোকটা গেছে, বাঁচা গেছে, বিরক্ত করবে না সন্ধ্যেবেলা সেজে-গুজে এসে বলবে না, টাকা দাও নতুবা ভাঙ-চুর হবে, ধ্বংস…

বেজে ওঠে দূর টেলিফোনে কাঁটাতার ওদিকে যেও না তুমি আর ওদিকে যেও না তুমি আর। আছো তুমি ভালো! দুইটি বিড়াল শাদা-কালো আছে দুই হাতে কথা হবে তোমাতে-আমাতে। সে-কথা কি আজো মনে পড়ে? বেজে ওঠে দূর টেলিফোনে কাঁটাতার ওদিকে যেও…