উল্টোদিকের সিট পেয়েছ হুডুমধাক্কা ভিড়ের মধ্যে
ঠিক তােমাকে দেখতে পেলাম, সেই ভােলাচুল, হাতের মুঠোয়
মােটকা একটা ইংরিজি বই, মাঝের পাতায় ক্লিপ আটকানাে
ইস্তিরিপাট একটা শাড়ি, আগে এমন হালকা সবুজ
পরতে না তাে? কিন্তু তােমায় মানাচ্ছে বেশ। বসতে পেয়েই
কী একটা বেশ মেসেজ না কি দেখছ ফোনে, হঠাৎ এদিক…
নাহ, বাঁচালে। এগিয়ে যাব? একটা দুটো কথা… উহু
অন্যদিন কী বিরক্তি আজ এই ভিড় আমার আশীর্বাদী
কেবলধাক্কা ভিড়ের মধ্যে মনে পড়ছে বৃষ্টির সেই
কী যাচ্ছেতাই বিকেলবেলা সুটকেস আর ব্যাগ গােছানাে,
কত না বার বােঝাচ্ছি আর হাত ছাড়িয়ে তুমিও তেমন
একের পর এক চিঠির বাক্স, জন্মদিনের সব উপহার
ছুড়ে ফেলছ মেঝের ওপর, দেখতে দেখতে মেঝেয় ফাটল
থাকব না আর তােমার সঙ্গে, তােমার সঙ্গে থাকা যায় না।
এক পা চলার লােক না তুমি… এসব কথা বলতে বলতে
দড়াম করে দরজা টেনে… একটা ট্যাক্সি, পেছন পেছন
দৌড়ে এসে আমি তখন কালাে ধোঁয়ায় মুখ ঢাকছি,
হঠাৎ কেমন মনে পড়ল এই এতদিন পরে আবার
আবার যখন মেট্রোতে আজ ভিড়ের মধ্যে হালকা সবুজ…
আগে এমন পরতে না তাে? চাইলে তুমি কেমন কঠিন।
কয়েকশাে ফোন কলের আমার জবাব দাওনি, দশটা ই-মেল
পাড়ায় গেছি, বাইরে তালা, ‘ওরা এখন কেউ থাকে না…’
কেউ থাকে না কেউ থাকে না আমার মতাে লােকের সঙ্গে
এক পা চলার লােক না আমি… রেলের ভেতর ভিড় কমছে..
রবীন্দ্র সরােবর, নাকি নেতাজি ভবনে নামবে?
অফিস যাচ্ছ? না আজ ছুটি? তৃণার বাড়ি, না অন্য কেউ…
অন্ধকার টানেল পেরিয়ে ছুটেছে ট্রেন পাগলা ঘােড়া
একই দিকে যাচ্ছি কিন্তু কেউ কারও আর কক্ষনও না।
এই কি তবে সঙ্গে যাওয়া?