যাকে চেয়েছিলাম — শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যাকে চেয়েছিলাম তাকে পেলাম না যে-ঘাট ছাড়ে নৌকা তাতে গেলাম না কপাল আমার মন্দ তাতে সন্দেহ কি চোখ বুজলে প্রিয় কেবল তোমায় দেখি ফুলগাছে জল দিলাম তাতে ধরেছে ফল যে-ঘরে পৌঁছুলাম দেখি ভাঙ্গা আগল অমূল্য রাখবো না বলেই গেলাম…
যাকে চেয়েছিলাম তাকে পেলাম না যে-ঘাট ছাড়ে নৌকা তাতে গেলাম না কপাল আমার মন্দ তাতে সন্দেহ কি চোখ বুজলে প্রিয় কেবল তোমায় দেখি ফুলগাছে জল দিলাম তাতে ধরেছে ফল যে-ঘরে পৌঁছুলাম দেখি ভাঙ্গা আগল অমূল্য রাখবো না বলেই গেলাম…
যদি হাতের রেখার মতো ফুটে উঠে চোখের সামনে দাঁড়াতে আমি আঁকতাম মুখ দুঃখী চিবুক উন্মুখ রঙ তূলিতে । যদি চলে যেতে যেতে চিরকুট লিখে বলে যেতে ভালো থাকবো আমি দিবস রজনী বিরতি বিহীন কাঁদতাম শুধু কাঁদতাম । যদি হারাবার আগে…
সময়ের ছারখার, অথচ তোমার মুখে আলো। কালকেউটে এখুনি কামড়ালো কাকে যেন, কাকে? এবারও কি লখিন্দর পাবে বেহুলাকে? ও বৌ ক্রমশ নীল, আরো নীল, রক্তে হিমকণা ও বৌ আমাকে ছেঁড়ে আগুনের কুড়ি লক্ষ ফণা ও বৌ আমার হাড়ে বিঁধে যায় কার…
হায় আমাদের দুঃখ আছে কতো রকম বুকের ক্ষত, মনের বারো গাঢ় জখম মা যেমন দুঃখ করেন হলো না তার ঘটিবাটি সোনার বাসন ন্যায্য আসন ছেলেরা তার দিলো না কেউ রইলো পড়ে বাইরে যেমন উড়োনচন্ডী জোয়ারে ঢেউ ; ঘর হলো না,…
জানি, জানি উপস্থিত বেদনা ও হানি আমারই প্রবীণ চক্ষে লাগিবে যে মূঢ়তার মতো এক দিন আশু ভবিষ্যতে। বিদায়ের পথে যে-মৌনী শোকের স্পর্ধা করেছে ব্যাহত দরদীর বাঙ্ময় সান্ত্বনা, যে-রূঢ় যন্ত্রণা, উপাড়ি মৃন্ময় মূল, এনেছে আমারে নৈরাশ্যের পারে, সে-সবার মহিমা বিনাশি, মোর…
ভাসিয়েছি প্রেম আজ নীলিমার অন্ধকার জলে, রাত্রির স্তব্ধতা আর জনহীন অন্ধকার কুলে। ভেসেছি ভাবনাহীন সমুদ্রের অন্তহীন বুকে, আমার শরীর মন অন্ধকার নীল বুকে জ্বলে। আমার হৃদয়ে আজ প্রেম নেই—লবণাক্ত জলে আমার হৃদয় ভাসে—অন্ধকার জনহীন রাতে সাগরের দেহে কেঁপে হেসে…