
কত অজানারে জানাইলে তুমি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কত অজানারে জানাইলে তুমি, কত ঘরে দিলে ঠাঁই- দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু, পরকে করিলে ভাই। পুরনো আবাস ছেড়ে যাই যবে মনে ভেবে মরি কী জানি কী হবে, নূতনের মাঝে তুমি পুরাতন সে কথা যে ভুলে যাই। দূরকে করিলে নিকট,…

কত অজানারে জানাইলে তুমি, কত ঘরে দিলে ঠাঁই- দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু, পরকে করিলে ভাই। পুরনো আবাস ছেড়ে যাই যবে মনে ভেবে মরি কী জানি কী হবে, নূতনের মাঝে তুমি পুরাতন সে কথা যে ভুলে যাই। দূরকে করিলে নিকট,…

বহু দিন ধরে’ বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি, বহু দেশ ঘুরে দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু।

বিকেলবেলা গড়িয়ে গেলে অনেক মেঘের ভিড় কয়েক ফলা দীর্ঘতম সূর্যকিরণ বুকে জাগিয়ে তুলে হলুদ নীল কমলারঙের আলোয় জ্ব’লে উঠে ঝরে গেল অন্ধকারের মুখে। যুবারা সব যে যার ঢেউয়ে,- মেয়েরা সব যে যার প্রিয়ের সাথে কোথায় আছে জানি না…

মানুষ সহজে ভুলে যায়, আমি ভুলতে পারি না এখনো শিশির দেখে অশ্রুভেজা চোখ মনে পড়ে, সবুজ অরণ্য দেখে মনে পড়ে স্নেহের আঁচল ভোরের শিউলি দেখে শৈশবের স্মৃতি চোখে ভাসে। মানুষের মতো আমি এতো বেশি স্বাভাবিক নই আমার নিশ্বয় কিছু…

এ যেন রে অভিশপ্ত প্রেতের পিপাসা — সলিল রয়েছে প’ড়ে, শুধু দেহ নাই। এ কেবল হৃদয়ের দুর্বল দুরাশা সাধের বস্তুর মাঝে করে চাই – চাই। দুটি চরণেতে বেঁধে ফুলের শৃঙ্খল কেবল পথের পানে চেয়ে বসে থাকা! মানবজীবন যেন সকলি…

তোমার আনন্দগানে আমি দিব সুর যাহা জানি দু-একটি প্রীতি-সুমধুর অন্তরের ছন্দোগাথা; দুঃখের ক্রন্দনে বাজিবে আমার কণ্ঠ বিষাদবিধুর তোমার কণ্ঠের সনে; কুসুমে চন্দনে তোমারে পূজিব আমি; পরাব সিন্দূর তোমার সীমন্তে ভালে; বিচিত্র বন্ধনে তোমারে বাঁধিব আমি, প্রমোদসিন্ধুর তরঙ্গেতে দিব দোলা…