অন্তরালোক – সমীর রায়চৌধুরী
কেউ কি ভালোবাসতে পারে ঐ স্বচ্ছ ঝর্ণার কিনারে । একাকিনী দেবদারুটির মতো । শীতের রোদ সারাগায়ে মাখবে বলে পাতার রাশি ঝরিয়ে দিতে পারে? আমি ভীরু শাল অশ্বখের শাখা পাতায় পাতায় আমার ঢাকা শরীর; কি জানি, কে জানে, সারা বছর কেন…
কেউ কি ভালোবাসতে পারে ঐ স্বচ্ছ ঝর্ণার কিনারে । একাকিনী দেবদারুটির মতো । শীতের রোদ সারাগায়ে মাখবে বলে পাতার রাশি ঝরিয়ে দিতে পারে? আমি ভীরু শাল অশ্বখের শাখা পাতায় পাতায় আমার ঢাকা শরীর; কি জানি, কে জানে, সারা বছর কেন…
তারপর? তারপর শেষ হল চোদ্দ বছরের অজ্ঞাতবাস। সে আমাকে দেখে ডুকরে উঠল – তুমি এমন বিবর্ণ কেন? আমি তাকে দেখে চমকে উঠলাম – তুমি এমন বিদীর্ণ কেন? সে বললে – আমার হাতের দিকে তাকাও। তার হাতে ঘর-পোড়া আগুনের চাকা-চাকা ছেঁকা…
মানুষ কত কী পারে! ফুল ফোটাতে পারে। চাঁদের মাটিতে হাঁটতে পারে। পর্বত গুঁড়িয়ে রাস্তা বানাতে পারে। আর মারণাস্ত্রে পৃথিবীর জনপদ ধ্বংসও করতে পারে। মানুষ যে কাজটা সবচেয়ে বেশি পারলে মানুষেরই মঙ্গল হত- সেই ভালবাসাটা-ই। মানুষ সবচেয়ে কম পারে।
সবুজ হাসিকে পিতল কাঁসার মতন বাজিয়ে বাজিয়ে বাজিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলো মেয়েটি দারুণ লাল গোধুলিতে এক সার ঘোড়া ক্ষেপে ছুটে গেল ধুলোকে উড়িয়ে যেন ডুগডুগি জোরে বেজে গেল মরুর বালিতে অশ্বক্ষুরের ধাক্কায় ধুলো ছাই-রঙ ফুল দিগন্তে হল, বিশাল মাঠের মধ্যে…
আমার সংসার ছিল গেরুবাজ কপোতের বাসা যখন আঁচল টেনে অকস্মাৎ সেঁধুলে হেশেলে, যেন এক চতুর্দশী কৈশোরের স্বপ্ন ঠেলে ফেলে। অনভ্যস্ত শাড়ি পরে, বুকভরা কল্পনার ভাষা এসেছে কবির ঘরে। ভেঙেচুরে ছন্দের নিয়ম। কিংবা নিজেই যেন অন্যতর মিলের নিগম নরম বুকের নিচে…
পাহাড়ী জোৎস্নায় খসে খসে নাকি সমস্ত আড়াল? দূরে টিলায় ছড়িয়ে গেছে সঙ্গীদল, আমরা দুজন কালো পাথরের নুড়ি খুঁজতে-খুঁজতে শালের ছায়ায়। মিশে যাই, মেঘভাঙা পাহাড়ী জ্যোস্নায় অন্ধকারে অদ্ভূত স্বাচ্ছন্দ্যে যেন শালের মঞ্জরী খোলে খুলে যায় শরীরে শরীর, গান। আমাদের ব্যক্তিগত সব…