
Sesh anka kobita Nabanita Devsen শেষ অঙ্ক – নবনীতা দেবসেন
অন্ধকার অমাবস্যা হয়ে সে এসে দাড়ায় মন ঢেকে যন্ত্রণার তারা ছুঁয়ে ছুঁয়ে নয়নে চরণরেণু রেখে। তবু বলি, মিনতি আমার এখনি যেয়াে না, যদি এলে – দেউলে আগুন জ্বলে যার, না-হয় শেষাঙ্ক দেখে গেলে।

অন্ধকার অমাবস্যা হয়ে সে এসে দাড়ায় মন ঢেকে যন্ত্রণার তারা ছুঁয়ে ছুঁয়ে নয়নে চরণরেণু রেখে। তবু বলি, মিনতি আমার এখনি যেয়াে না, যদি এলে – দেউলে আগুন জ্বলে যার, না-হয় শেষাঙ্ক দেখে গেলে।

জানি যে আমাকে তুমি ঘৃণা করো, মেয়েদের ঘৃণা যেখানে যেখানে পড়ে সে জায়গাটা কালো হয়ে যায় নতুন অঙ্কুর উঠে দাঁড়াতে পারে না সোজা হয়ে তোমার ঘেন্নার ভয়ে পালাতে পালাতে আমি এই দিগন্তে শুয়েছি, সামনে সভ্যতা পর্যন্ত পড়ে থাকা যতটা শরীর,…

কত কাছে এসেছিলে। অত কাছে এসে সরে যাওয়া শক্ত, এ বয়সে। কিন্তু সরে যাওয়াই নিয়তি। চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে ছুরি খুলে নেওয়ার পরেও আগুন কি ফোয়ারা চায় না? তখনও থর থর কেঁপে চলে পাহাড় ঘুমন্ত আজ। ঢালু সূর্য। ছায়া পড়ছে জলে।…

এক পথ ঘুমন্তের পায়ে এক পথ নৌকার পারানি এক পথ পালকের গায়ে মা আমি সমস্ত পথ জানি দিন থামে গাছের তলায় রাত্রি থামে পরীদের বাড়ি সিঁড়ি দিয়ে আলো উঠে যায় মা আমি সমস্ত আলো পারি এ আকাশ ভাঙে মাঝে মাঝে…

আশ্বাসে-সংশয়ে জীর্ণ আন্দোলিত অপরূপ এ-আমার দেশে দেশে ঘুরে আমি যদি পথে পথে একমুঠো বাঁচবার মতো প্রাণ খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হই তখন তোমার চোখ একা একা আকাশের মতো ম্লান কেঁপে মেঘে মেঘে বুক ভরে তপস্যার মতো সে তখন প্রেমে প্রেমে দীর্ণ…

বুকের প্রপাত ঝরে যায় এতগুলি ডিঙা তুমি কোথায় পেয়েছ ভুলে যাই বুকের প্রপাত ঝরে যায় জল, এত জল, শুধু চারিদিকে জল খেলা করে বুকের আকাশ সরে যায় এমন প্রপাত ঝরে যায় আর তুমি ডিঙা নিয়ে এই সব ডিঙা নিয়ে যাও…