
যখন, কেবলমাত্র তুমি – মন্দাক্রান্তা সেন
আমি কারও চোখ দেখলে বলে দিতে পারি তার সঙ্গে প্রেম হবে কি না আমার কখনও রাস্তাঘাটে ট্রামেবাসে বন্ধুর বাড়িতে মাঝেমধ্যে চোখ গিঁথে যায় অরক্ষিত মুখে আমি জানি তাদের মধ্যেই কোনােজন আমাকে ভাসান দিয়ে যাবে লােনা…

আমি কারও চোখ দেখলে বলে দিতে পারি তার সঙ্গে প্রেম হবে কি না আমার কখনও রাস্তাঘাটে ট্রামেবাসে বন্ধুর বাড়িতে মাঝেমধ্যে চোখ গিঁথে যায় অরক্ষিত মুখে আমি জানি তাদের মধ্যেই কোনােজন আমাকে ভাসান দিয়ে যাবে লােনা…

আদিগন্ত রাজ্যপাট তােমাকে দেখেছি ছেড়ে যেতে যখন কোপাচ্ছ মাটি এক চিলতে বেড়াঘেরা খেতে তােমাকে দেখেছি আমি দূর থেকে, বাঁধের ওপরে দাঁড়িয়েছি কতদিন, নদীর রঙের শাড়ি পরে। আমি জানি তুমি সেই রাজকুমার, আড়াল-বিলাসী কোথায় তােমার বীজ, কী শস্য বুনেছ খেতে, চাষি?…

এবার শ্রাবণে তুমি পাহাড়ে গেছিলে পাহাড়ের বৃষ্টি বুঝি আলাদারকম? মেঘেদের ভুলে-যাওয়া অসুখ কি কম, কথা দিয়ে কথা রাখে, টাইগার হিলে? শহরেও বর্ষা ছিল; সে তাে যথারীতি ঘুরেছিল একা একা, সারাপায়ে কাদা পুরােনাে অভ্যাস তার মিছিমিছি কাঁদা আকাশে গভীর মন-খারাপের তিথি…

কথা বলো মা-বাবার সাথে আমার আপত্তি নেই তাতে আমাদের কথা পরে হবে। সবকিছু দারুণ সংযমী গোপনে যে দুঃসাহসী তুমি একথা জেনেছি যেন কবে ? মা তোমাকে পছন্দই করে বাবাও ভাইয়ের মতো ধরে কিন্তু তুমি বন্ধু তো আমারি কাকিমা এল না…

ধূসর পাঞ্জাবি মেঘলা পাঞ্জাবি তােমার পাঞ্জাবি মেঘ নামায় এখনই রােদ ছিল, লজ্জাবােধ ছিল, হঠাৎ ঝড় এল আকাঙ্ক্ষায় কৃষ্ণচূড়া গাছে বৃষ্টি নেমেছিল, উষ্ণজমি থেকে তীব্র ভাপ আমার বুকে এল, তােমার মুখে এল, গভীর সুখে এল প্রবল কাঁপ ধূসর পাঞ্জাবি মেঘলা পাঞ্জাবি…

শুকনো পাতায় পায়ের শব্দ শুনে হঠাৎ চমকে পিছনে তাকিয়ে দেখি বিকেল কেমন স’রে গেল দ্রুতপায়ে খাদের কিনারে ঝুঁকে প’ড়ে দেখি – ওই… নীচে বহু নীচে গড়িয়ে যাচ্ছে আলো ঝরা পাতারাও কুয়াশায় ভিজে গেছে সন্ধে নামছে দীর্ঘশ্বাসের মতো