
বুকে প্রাণটা এমনিই রইলো, জানো ভাই,
ঘরে দাঁড়িয়ে মন বললে শুধু যাই
-যাই।
প্রকাণ্ড তামার চাঁদ রাত্রে
গ’লে হ’লো সোনা। সোনার পাত্রে
পরে আভায় ছড়ালো অন্তর্লীন রেদ্দুর।
নৌকো দূরে গেলো বেয়ে সেই অভ্রের সমুদ্দুর।
সেদিন রাত্রে যখন আমার কুমু বোনকে হারাই।
আর, অজ্ঞান মুহূর্তগুলো, তারায়
মিলিয়ে রইলো স্বচ্ছধারায়।
জেগে-থাকা চোখে,
মাটি গাছমাঠের জমা-ঠাণ্ডা দৃশ্য পলকে-পলকে
বদলালো একটু বর্ণ; তবু বর্ণহীন
একটু আলো ছিলো, ক্ষীণ, খুব ক্ষীণ।
আলোর সূক্ষ্ম প্রাণ অণুতে-অণুতে কী হচ্ছিলো। কালোর মধ্যে
দিয়ে উদয়।
অন্য কিছু নয়।
তিরোহিত চন্দ্রবর্ণ আকাশে উষা
এলো আবার দিন, প্রাচীন সোনার বেশভূষা।
ঘরের দেয়ালগুলো ফুটলো রাঙা আঁচড়ে।
তারপর ? মেঘের স্তরে-স্তরে
রোজকার বিষণ্ণ সুন্দর সকাল এলো ভ’রে।
তখন দরজায় দেখলেম দাঁড়িয়ে -হঠাৎ -আছি সবাই,
জানো ভাই,
– আর সবাই।
বুকের হাড়ে শক্ত কান্না নেই, কেবল, কী জানি
হয়তো এমনিই মনে-করা,
যাই, একবার যাই। রইলাম তবু। শক্ত ধরা।।