
সৈকত – শঙ্খ ঘোষ
আজ আর কোনো সময় নেই এই সমস্ত কথাই লিখে রাখতে হবে এই সমস্ত কথাই যে নিঃশব্দ সৈকতে রাত তিনটের বালির ঝড় চাঁদের দিকে উড়তে উড়তে হাহাকারের রুপোলি পরতে পরতে খুলে যেতে দেয় সব অবৈধতা আর সব হাড়পাজরের শাদাধুলো অবাধে ঘুরতে…

আজ আর কোনো সময় নেই এই সমস্ত কথাই লিখে রাখতে হবে এই সমস্ত কথাই যে নিঃশব্দ সৈকতে রাত তিনটের বালির ঝড় চাঁদের দিকে উড়তে উড়তে হাহাকারের রুপোলি পরতে পরতে খুলে যেতে দেয় সব অবৈধতা আর সব হাড়পাজরের শাদাধুলো অবাধে ঘুরতে…

তোমার মৃত চোখের পাতা ভেঙে উঠে আসছে বাষ্পগহ্বর আর তাকে ঢেকে দিতে চাইছে কোনো অদৃশ্য হাত যখন চারপাশে ফাটলে ফাটলে ভরে গিয়েছে টলমল পাহাড় দৃষ্টিহারা কোটরের প্রগাঢ় কোলে ঝর্ঝর গড়িয়ে নামছে অবিরাম কত নুড়িপাথর আর আমরা হলুদ হতে থাকা শ্বেতকরোটির…

অনেকদিন মেঘের সঙ্গে কথা বলোনি তাই এত শুকনো হয়ে আছো এসো তোমার মুখ মুছিয়ে দিই সকলেই শিল্প খোঁজে রূপ খোঁজে আমাদের শিল্পরূপে কাজ নেই আমরা এখানে বসে দু-একটি মুহূর্তের শস্যফলনের কথা বলি এখন কেমন আছো বহুদিন ছুঁয়ে তো দেখিনি শুধু…

যখন এক জীবনের কাজের আমূল ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে ভাবি এইবার তাহলে কোনদিকে যাব যখন এক পা থেকে আরেক পায়ের দূরত্ব মনে হয় অলীক যোজন ছায়ায় ঝাপসা হয়ে-থাকা স্থিরতা যখন মূর্তির কোনো-এক নিরর্থ খণ্ড হাতে তুলে নিয়ে মনে পড়ে কোন্ মূখের…

যন্ত্রের এপার থেকে কথা বলতে বলতে শব্দগুলি জলস্তম্ভ তোমাকে তারা ছুঁতে পারে না আর তুমিও দেখতে পাও না মুখচ্ছবি কোথায় কীভাবে ভাঙে কেননা কেবলই স্তম্ভ, জল নেই স্নানজল নেই অথবা বালির ঝড় উলটোমুখে ছুটে যাওয়া পথে পথে পেতে রাখা জালগুলি…

একবার এক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে একটি ট্রেনের জানালায় তোমাকে দেখেছিলাম— গায়ে পশমি-চাদর, চোখে হালকা-রঙের সানগ্লাস তোমার সমুদ্রের মতো গভীর দৃষ্টি— হয়তো বা আমার দিকেই! মনে হলো, তুমি ইশারায় ডাকছো আমাকে। আমার চোখ দু’টো জানালায় স্থির, পৃথিবীর সব কোলাহল অকস্মাৎ আফ্রিকার…