
সঙ্কেতময়ী – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
মুকুরে বসিয়া বেণী বাঁধিতেছ, আঁচল পড়েনি খসে’ । যদি আজ যাই, নিশ্চয় চোখ ভরিবে না সন্তোষে । আজি তুমি কত দূরে – শুভকামনার প্রদীপ জ্বালিবে একদিন সিন্দূরে ! দু’হাত বাড়ায়ে আকাশ চেয়েছি, চেয়েছি বসুন্ধরা, একদা চমকি’…

মুকুরে বসিয়া বেণী বাঁধিতেছ, আঁচল পড়েনি খসে’ । যদি আজ যাই, নিশ্চয় চোখ ভরিবে না সন্তোষে । আজি তুমি কত দূরে – শুভকামনার প্রদীপ জ্বালিবে একদিন সিন্দূরে ! দু’হাত বাড়ায়ে আকাশ চেয়েছি, চেয়েছি বসুন্ধরা, একদা চমকি’…

আমাকে বলাে ছেলে কোথায় খুঁজে পেলে তাকে তােমার এলােমেলাে জীবনে কবে এল প্রেম! কেমন সেই মেয়ে তােমার পথ চেয়ে যার প্রহর কেটে যায় নত অপেক্ষায় ভিজে? আমাকে বলাে ছেলে কেমন সে বিকেলে তার চোখের তরণীতে নােঙর তুলে নিতে জল তােমাকে…

দাঁড়া, ছিঁড়ে যাবার আগেই মুখস্থ করে নি’ তাের ঠোঁট ঠোঁটের ওপারে তৃণভূমি সীমারেখা: ঈষৎ ভঙ্গুর গভীরতা: বিপদ-জনক উষ্ণতা: অসহনীয়, ভালাে বৃষ্টিপাত: অঢেল অঢেল আর, এই ভরা চৈত্রদিনে ঠোঁটের ঈশান কোণ থেকে ঝড় আসে। সীমান্তে পা ফেলে দাঁড়িয়েছি আমাদের ঠোঁটের ভেতরে…

সিড়িতে রােদের দাগ, সেই দাগে লুকোনাে পা ফেলে শহরের প্রান্ত থেকে ফসলের গন্ধ নিয়ে এলে দ্বিতলে, কোণের ঘরে, দেওয়ালের পলেস্তারা খসা ধুলাে ও জীবাণু নিয়ে অসুখের সঙ্গে ওঠাবসা এখানে নিয়ত; তুমি এ ঠিকানা কোথা থেকে পেলে! এসেছ আমার ঘরে সিড়িতে…

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক। এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা, সারা বাড়ি ভরি…

সারাক্ষণ তোমাকে মনে পড়ে তোমাকে সারাক্ষণ মনে পড়ে মনে পড়ে সারাক্ষণ। তুমি বলবে আমি ভালোবাসি তোমাকে, তাই। কিন্তু এর নাম কি ভালোবাসা? নিতান্তই ভালোবাসা? যে ভালোবাসা হাটে মাঠে না চাইতেই মেলে! ভালো তো আমি বাসিই কত কাউকে, এরকম তো মরে…