
Mulyoprapti poem lyrics মূল্যপ্রাপ্তি কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অঘ্রাণে শীতের রাতে নিষ্ঠুর শিশিরঘাতে পদ্মগুলি গিয়াছে মরিয়া– সুদাস মালীর ঘরে কাননের সরোবরে একটি ফুটেছে কী করিয়া। তুলি লয়ে বেচিবারে গেল…

অঘ্রাণে শীতের রাতে নিষ্ঠুর শিশিরঘাতে পদ্মগুলি গিয়াছে মরিয়া– সুদাস মালীর ঘরে কাননের সরোবরে একটি ফুটেছে কী করিয়া। তুলি লয়ে বেচিবারে গেল…

আমি যাই তোমরা পরে এসো ঘড়ি-ঘন্টা মিলিয়ে শাক-সবজি বিলিয়ে তোমরা এসো ততক্ষণে চোখের ওপরকার হৈ হৈ শূন্য মাঠ পার হই তারপর তো একনাগাড় জঙ্গল সাপ-খোপ-জলা সবুজ একগলা দেয়াল বা দেয়ালের চেয়ে বেশি মৃত্যু এলোকেশী সাঁকো যেখানেই থাকো এপথে…

দু’জন খসখসে সবুজ উর্দিপরা সিপাহী কবিকে নিয়ে গেল টানতে টানতে কবি প্রশ্ন করলেন : আমার হাতে শিকল বেঁধেছ কেন? সিপাহী দু’জন উত্তর দিল না; সিপাহী দু’জনেরই জিভ কাটা। অস্পষ্ট গোধুলি আলোয় তাদের পায়ে ভারী বুটের শব্দ তাদের মুখে কঠোর…

বৃদ্ধ খঞ্জ চণ্ডালী এক শ্রীমুখ দেখিতে রথে একাকিনী যায়, চলে ধীরি ধীরি মেদিনীপুরের পথে। দিবসে যে শুধু হাঁটে এক ক্রোশ, তাহার একি গো দায়, গৃহ হতে দূরে একশত ক্রোশ পুরীধাম যেতে চায়। দলে দলে চলে পুরীর যাত্রী খোঁজ করে…

মাকে আমি ছোটবেলা থেকেই সাদা শাড়ি পরতে দেখি। আমার জন্মের আটমাস পরে-হঠাৎই আমার বাবা চোখ বুজেছিলেন। সেই থেকেই মা’ মানেই সাদা শাড়ি মা’ মানেই শিরা ওঠা হাতে দু গাছা ব্রোঞ্জের চুড়ি, ফাঁকা কপাল, ধূ ধূ সিঁথে, চোখ জুড়ে বিকেল।…

ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে মানুষ ছিলো নরম, কেটে, ছড়িয়ে দিলে পারতো। অন্ধ ছেলে, বন্ধ ছেলে, জীবন আছে জানলায় পাথর কেটে পথ বানানো, তাই হয়েছে ব্যর্থ। মাথায় ক্যারা, ওদের ফেরা যতোই থাক রপ্ত নিজের গলা দুহাতে টিপে…